মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুত্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যৌথ উদ্যেগে এক আলোচনা সভা জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার সহ-সভাপতি ওয়াসিম মুহাম্মদ শামস্ এর সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শুভ আজাদ শান্তর পরিচালনায় সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা মার্কেটস্থ এনডিএফ কার্যালয়ে অনুষ্টিত হয়।
সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো.ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার সহ-সভাপতি মো.মিলন, সাধারণ সম্পাদক মো. সজিব আহমদ (জয়) সদস্য নূর আলম, মো. সজিব সহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের আজকের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি রাজনীতি করেছেন সমাজের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, ঔপনিবেশিক শাসন শোষণ অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। বর্তমান যে রাজনীতি রাজনীতি খেলায় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল মেতে উঠেছে তাতে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একদল ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং আরেকদল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরীয়া হয়ে উঠছে তারা জনগণের সমস্যা সংকটকে আড়াল করে সাম্রাজ্যবাদী নীল নকশা বাস্থবায়ন করে চলছে।
বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ডাক্তারি মতে ‘ক্লিনিক্যাল ডেড’ বলে রোগীর যে অবস্থাটা বোঝানো হয় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটা ঠিক তাই। মৃত্যুর সব চিহ্ন প্রকট, সর্ব শরীর অসাড়, সব ইন্দ্রীয় নিস্ক্রীয়, ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়াহীন, তবু মৃত্যু ঘটেছে বলা যায় না। এই শিক্ষাব্যবস্থাটা আজ সব অর্থে বিকল। এই শিক্ষাব্যবস্থায় একজন মানুষ প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষার মধ্য দিয়ে স্বাচ্ছন্দে বেরিয়ে আসতে পারে শিক্ষা বিষয়টি দ্বারা সামান্যতম স্পর্শিত না হয়েই। মানুষকে এমন চরম অপদার্থ ও অকর্মা বানাবার কারখানা দুনিয়ায় আর কোথাও আছে কিনা তা জানা নেই। দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর কোন উন্নয়ন বা মজ্ঞল কামনা সম্ভব নয়। দেশের মাটি জলবায়ুর সাথে এর অনেকটা তেল পানির সম্পর্ক। তেল যেমন পানিতে ভেসে থাকে, তেমনি প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ দেশের ব্যাপক জনসাধারণের উপরে ভেসে থেকে জোঁকের মত জনগনের রক্ত চুষে নিচ্চে। দেশের যে আঁশি ভাগ মানুষকে নিরক্ষর করে রাখা হয়েছে তাদের কাঁদের উপর নির্ভরশীল পরগাছা একটি শিক্ষিত শ্রেনী তৈরি হচ্ছে। ব্রিটিশদের এই কেরানি তৈরির শিক্ষাব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার লড়াই সংগ্রামকে শক্তিশালী করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা সকলের প্রয়োজন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সবি/ইআ-০৬




