দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) ‘ব্রাক’র অবদান অনস্বীকার্য; স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি দেশের সংকট সমাধানে অবদান রেখে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমেদ মোশতাক রেজা চৌধুরী।

 


বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

 

অধ্যাপক আহমেদ মোশতাকের লেখা বই ‘আমার ব্রাক জীবন’। প্রথমা প্রকাশনী বইটি প্রকাশিত করেছে। এই বইয়ের সার্বিক দিক নিয়ে ওই মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনায় বইয়ের লেখক বলেন, ‘বইয়ে ১৪টি অধ্যায় রয়েছে। এতে আমরা ব্রাক জীবনে নানা ইতিহাসের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। ব্রাকের বেড়ে ওঠা এবং গ্রামীণ লোকদের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্কের দিকটিও এই বইয়ে রয়েছে। এছাড়া ব্রাকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে; যেগুলো ব্রাকই দেশে প্রথম শুরু করে। সেই বিষয়গুলোই এতে আলোচনা করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ব্রাকের অগ্রগতির পথে সংকটও ছিল। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ব্রাক আজ বিশ্বের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে রূপ পেয়েছে।’

 

ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা এবং এই অন্যতম উদ্যোক্তার ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন লেখক ও গবেষক অধ্যাপক মোশতাক।

 

অনুষ্ঠানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অধ্যাপক মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা ঝুমার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন শাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক কামাল আহমদ চৌধুরী, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. ড. শাহজাহান মিয়া ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মনযুর-উল-হায়দার প্রমুখ।

 

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধবিধস্ত দেশে ভারত থেকে ফিরে আসা শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনকাজের মধ্য দিয়ে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্র্যাক। শুরুতে (১৯৭২-৭৩) এর নাম ছিল বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিসটেন্স কমিটি। পরে (১৯৭৩-৯৪) নাম হয় বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি। ফজলে হাসান আবেদ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাকের যাত্রা শুরু হয়েছিল দাতাদের আর্থিক সহায়তায় ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-৩০