ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানতে লাখো মানুষের ঢল নামবে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। একুশের প্রথম প্রহরে শুরু হবে ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। জাতীয় এই দিবসকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের অংশ হিসেবে  সিলেটে চলছে ফুল বিক্রির ধুম। শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে ফুল কিনতে আসা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের কেউ কেউ বানিয়ে নিচ্ছেন ফুলের রিং, তোড়া। কেউ কিনছেন শুধু ফুল।
 

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে সিলেটে চলে ফুলের জমজমাট ব্যবসা। পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উদযাপনের পরই আসে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। সাধারণত এই মাসে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা বেড়ে যায় কয়েকগুন। সিলেট নগরীর বিভিন্ন ফুলের দোকান ঘুরে দেখা যায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ফুলের দাম নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতার সকলকেই।
 


সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় বিভিন্ন ফুলের দোকান ঘুরে দেখা যায় ২১শে ফেব্রুয়ারির জন্য তৈরি করা মাঝারি আকারের ফুলের রিং বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ১০০০ টাকা। আর বড় আকারের রিং বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।
 

জহির নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে যাব, সে লক্ষ্যেই ফুলের তোড়া কিনতে আসা। দোকানগুলোতে ফুলের কমতি না থাকলেও কিনতে গেলে পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানিরা বলছেন, বেশিরভাগ ফুল আগেথেকে অর্ডার করা। এছাড়া যে দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে তারাও দাম চাচ্ছেন অতিরিক্ত। এরই মধ্যে দরদাম করে ৮০০ টাকায় ছোট একটা তোড়া কিনেছি। এবার ফুলের দাম অনেক বেশি। একটি গোলাপ কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আর বড় রিং দাম চাচ্ছে ২০০০ টাকা।’
 

বিক্রেতারা বলছেন, ব্যক্তিগত ক্রেতার তুলনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, প্রাতিষ্ঠানিক লোকজন বেশি ফুল কিনছেন। অনেকে শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য পুষ্পস্তবক সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ সকালের জন্য অর্ডার করে যাচ্ছেন। সে অনুযায়ী, কারিগররা ব্যস্ত ফুলের রিং, তোড়া তৈরিতে।
 

তিনি আরও জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ফুল বিক্রি শুরু হয় আগের দিন সন্ধ্যা থেকে। রাত ১২টার মধ্যেই অধিকাংশ ফুল বিক্রি হয়ে যায়।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটায় নগরীর বিভিন্ন ফুলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ফুল, বাঁশের চাটাই আর শোলায় তৈরি হচ্ছে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের তোড়া। গত বছরের তুলনায় ফুলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বেচা-বিক্রি থাকলেও দামের কারনে ক্রেতাদের সাথে চলছে দর কষাকষি।
 

অনেক বিক্রেতার বলছেন, কয়েকদিন আগে ভালবাসা দিবসে প্রচুর ফুল বিক্রি হয়েছে। তখন বাগানের সকল ফুল তোলা হয়ে গিয়েছিল, তাই এখন দাম একটু বেশি। ফুলের দাম বেশি থাকায় লাভ তেমন হচ্ছে না।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত/পিডি/এসডি-৩০