আপনার চুলের ধরন বা রঙ কেমন হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার বংশগতির ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অকালে চুল পেকে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে যাদের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে। অকালে চুল পাকার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে চাপ, ধূমপান, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজের অভাব, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং থাইরয়েড রোগ বা অটোইমিউন রোগের মতো চিকিৎসা পরিস্থিতি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, মেলানিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে চুল ধূসর হয়ে যায়। এই মেলালিনের উপস্থিতির কারণেই চুল কালো দেখায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফলিকলে মেলানিন-উৎপাদনকারী কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বা মারা যেতে পারে, যার ফলে মেলানিন উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত চুল ধূসর হয়ে যায়।


চুল সাদা হয়ে হওয়া বার্ধক্য প্রক্রিয়ার একটি প্রাকৃতিক অংশ। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বয়সের আগেই চুল পাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা প্রতিরোধের কোনো পরিচিত প্রতিকার নেই, তবে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এবং চিকিৎসা এই প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়া এবং চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজযুক্ত চুলের পণ্য ব্যবহার করলে এক্ষেত্রে উপকার পাবেন।

অকালে পেকে যাওয়া চুল লুকানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রাকৃতিকভাবে রঙ করা। ঈদের সময় নিজেকে দেখতে সুন্দর লাগুক এমনটা সবাই চান। আপনার চুলও দেখতে সুন্দর লাগবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে রং করতে জানলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই ৭ ঘরোয়া উপায়-

 

মেহেদি

গরম পানিতে মেহেদির গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে এবং কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মেহেদির ব্যবহারে আপনার চুলে লাল-কমলা রঙের আভা তৈরি হবে। এছাড়া এর পুষ্টিগুণ তো চুলে পৌঁছাবেই।

কফি

কড়া করে এককাপ কফি তৈরি করুন। এরপর তা ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে সেই কফির মিশ্রণ আপনার চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর এভাবেই অপেক্ষা করুণ অন্তত এক ঘণ্টা। এক ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। কফি আপনার চুলকে উজ্জ্বল গাঢ় বাদামি রঙ দিতে পারে। এতে আপনার লুকেও নতুনত্ব আসবে।

ক্যামোমাইল

কড়া করে এককাপ ক্যামোমাইল চা তৈরি করুন। জ্বাল দেওয়া হলে নামিয়ে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ক্যামোমাইল আপনার চুলে হালকা সোনালি রঙ এনে দিতে পারে।

গাজরের রস

কয়েকটি গাজর সেদ্ধ করে নিন। এবার গাজরের টুকরাগুলো তুলে ফেলে এর রস ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে সেই রস চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টার মতো রেখে দিন। এরপর দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গাজরের রস আপনার চুলে লাল-কমলা রঙ এনে দিতে পারে।

 

বিটের রস

কয়েকটি বিট সিদ্ধ করে রস ঠান্ডা হতে দিন। এরপর সেই রস চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টার মতো রেখে দিন। ঘণ্টাখানেক পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বিটের রস আপনার চুলকে লালচে-বেগুনি আভা দিতে সাহায্য করবে। আপনার চুলের এই রঙ অনেকেরই নজর কাড়বে।

নীল

গরম পানির সঙ্গে নীল গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর ঠান্ডা করে আপনার চুলে লাগিয়ে নিন। অপেক্ষা করতে হবে ২-৩ ঘণ্টা। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলো গাঢ় নীল-কালো রঙের আভা এনে দেবে।

লেবুর রস

চুলে লেবুর রস ব্যবহারের কিছু উপকারিতা আছে। সেইসঙ্গে এটি চুলে রং করতেও কাজ করে। একটি লেবুর রস বের করে চুলে লাগিয়ে নিন। এরপর কয়েক ঘণ্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর রসের ব্যবহারে আপনার চুল হালকা সোনালি হয়ে উঠবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইআ-০৩