অনেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন পিঠের ব্যথা। তার প্রভাব পড়ছে তাঁদের চলাফেরায়, এমনকি চিন্তা-ভাবনাতেও। কিন্তু সামান্য কিছু অভ্যাস করলেই পাওয়া যেতে পারে ভালো ফল। কমতে পারে ব্যথার প্রকোপ।


চলাফেরা করুন


প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ চলাফেরা না করলে আমাদের মাংসপেশিতে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না। কমে যায় হাড়ের সংযোগের নমনীয়তা। ফলে সেগুলো শক্ত হতে থাকে। তা থেকে হয় ব্যথা। বিশেষ করে মেরুদণ্ডের হাড় ও পিঠের মাংসপেশিতে। তাই যত বেশি সম্ভব চলাফেরা করুন। আপনি যদি বাসে চলাচল করে থাকেন, এক স্টপেজ আগে নেমে যান। বাকি পথ হাঁটুন। তাড়া না থাকলে রিকশার দূরত্ব হেঁটে যান। দুই-তিনতলা পর্যন্ত লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। টানা বসে থাকতে হলে এক ঘণ্টা পরপর বিরতি নিন। কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। সম্ভব হলে প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন। 

 

সব্যসাচী হোন

সবারই শরীরের কোনো এক পাশ বেশি সক্রিয় হয়। ডানহাতিদের ডান পাশ, বাঁহাতিদের বাঁ পাশ। আপনি যখন শরীরের সক্রিয় পাশ দিয়েই সব কাজ করবেন, অন্যদিকের মাংসপেশি দুর্বল হতে থাকবে। এতে বাড়ে পিঠে ব্যথার ঝুঁকি। দীর্ঘস্থায়ী জখমেরও আশঙ্কা তৈরি হয়।

যে কারণে প্রায়ই দেখা যায়, অন্য খেলার খেলোয়াড়রা দুর্বল হাতে গলফ খেলেন। মানে, ডানহাতিরা বাঁ হাতে আর বাঁহাতিরা ডান হাতে। প্রতিদিনের জীবনে আপনিও তেমন চেষ্টা করুন। ব্যাগ নেওয়া, দরজা খোলার মতো কাজগুলো দুর্বল হাতে করার অভ্যাস করুন।

 

ভারসাম্য ঠিক রাখুন

পুরো শরীর ব্যবহৃত হয়, এমন কাজগুলোতে ভারসাম্য ঠিক রাখা বেশ জরুরি। যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার, সাইকেল চালানো ইত্যাদি। আমাদের শারীরিক গঠন এমন যে এই কাজগুলো আপনাকে শরীরের দুই পাশের ভারসাম্য সমান রেখে করতে হবে। না করলে যে পাশে বেশি জোর বা ভর দেবেন, সে পাশের পিঠের মাংসপেশি বেশি ব্যবহৃত হবে। চাপ পড়বে মেরুদণ্ডে।

 

শরীর এলিয়ে দেবেন না

ক্লান্তি বা আলস্য যে কারণেই হোক, যখনই আপনার কাঁধ ঝুলে পড়বে, সচেতন হোন। নিজেকে নিজেই সোজা করে নিন। সময়ে সময়ে শরীর এলিয়ে যেতে চাইবে।


এটা স্বাভাবিক। তবে আপনি তা নিয়ে সচেতন কি না, নিজেকে থামাচ্ছেন কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের সরাসরি যোগ আছে। এমনটা হলেই পিঠ সোজা করে লম্বা করে দম নিন। সে জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন।

 

 

দূরে রাখুন অবসাদ

মানসিক অবসাদও আপনার পিঠব্যথার কারণ হতে পারে। অবসাদ দূর করতে মনোযোগ দিতে পারেন আপনার বর্তমানে। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবসাদ সৃষ্টি হয় অতীতের কিছু মনে করে বা ভবিষ্যতের কিছু ভেবে। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য করতে পারেন প্রফুল্লতার চর্চা। পাশাপাশি করতে পারেন নিশ্বাসের ব্যায়াম।

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এনটি


সূত্র : প্রথম আলো