ছবি: সংগৃহীত

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি প্রতীচীতে উচ্ছেদের নোটিশ আগেই ঝোলানো হয়েছিল। সেই নোটিশের আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে চিঠিও লিখেছিলেন অমর্ত্য সেন। তারই জবাবে এবার ১৫ দিনের মধ্যে জমি ছাড়তে বলে বুধবার (১৯ এপ্রিল) চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
 

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতর স্বাক্ষরিত নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি প্রতীচী খালি করা না হয়, তাহলে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করবে কর্তৃপক্ষ।
 


প্রসঙ্গত, এর আগেও শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ গেটে উচ্ছেদের নোটিশ ঝোলানো হয়েছিল। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৯ এপ্রিল ‘প্রতীচী’ জমি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে তার আগে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে ১৭ এপ্রিল জবাবি চিঠি দিয়েছিলেন অমর্ত্য সেন।
 

চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, লিজের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে কেউ এই জমি দাবি করতে পারেন? নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ আরও লেখেন, শান্তিনিকেতনে ‘প্রতীচী’র জমিতে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। অমর্ত্য সেন জানান, তিনি এখন দেশের বাইরে রয়েছেন, আগামী জুন মাসে ফিরবেন।
 

এর আগে, জমি ছাড়ার নোটিশ প্রতীচীর গেটে লাগানোর আগে গত ১৩ এপ্রিল বিশ্বভারতীতে এ সংক্রান্ত একটি শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বিদেশে থাকার কারণে সেই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না অমর্ত্য সেন। এরপরেই ১৪ এপ্রিল প্রতীচীর গেটে উচ্ছেদের নোটিশ টানিয়ে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
 

বিশ্বভারতীর অভিযোগ, এই জমি অমর্ত্য সেন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। তবে অমর্ত্য সেনের দাবি, এই জমি তার বাবার। ১ দশমিক ৩৮ একর জমি অমর্ত্য সেনের নামে মিউটেশন করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে। মিউটেশন করার কথা জানানো হলেও বিশ্বভারতী নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। অমর্ত্য সেনের আইনজীবীকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে ইমেইলে বলা হয়, ১৯৭১ সালের দখলদার উচ্ছেদ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৮


সূত্র : জাগোনিউজ