ছবি: সংগৃহীত

আজ সেই ভয়াবহ ৪ আগস্ট। ২০২৪ সালের এইদিনে গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণণে ৭ জন নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এমন ঘটনার পর উত্তাল হয়ে উঠে গোটা উপজেলা। এসময় আন্দোলনকারীরা নিহতদের লাশ নিয়ে মিছিল করে উপজেলা সদরে।

 


গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে একইসাথে ৭ হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রথম। এদিকে ঘটনার একবছর পেরিয়ে গেলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন নি শহিদ পরিবারগুলোর সদস্যরা। সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে এখনো বিলাপ করছেন তারা।

 

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী আন্দোলনের ন্যায় গোলাপগঞ্জেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলন তুঙ্গে উঠে। ৪আগস্ট উপজেলাজুড়ে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। স্কু-কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীর সাথে আন্দোলনে যোগ দেন সকল শ্রেণীপেশার মানুষ।

 

এসময় উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে ছাত্র জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে প্রাণ হারান উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় গ্রামের ছুরাই মিয়ার পুত্র হাসান আহমদ (২৪), বারকোট গ্রামের মকবুল আলীর পুত্র তাজ উদ্দিন, নিশ্চিন গ্রামের তৈয়ব আলীর পুত্র নাজমুল ইসলাম, দত্তরাইল গ্রামের আলাই মিয়ার পুত্র মিনহাজ উদ্দিন, ঘোষগাও গ্রামের মোবারক আলীর পুত্র গৌছ উদ্দিন, শীলঘাট গ্রামের কয়ছর আহমদের পুত্র ছানি আহমদ ও নিজ ঢাকাদক্ষিণ গ্রামের কামরুল ইসলাম পাবেলে।

 

এঘটনার পর গোটা উপজেলায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিস্থিতি। কালো অধ্যায় রচনা করে উপজেলা এক ইতিহাস সৃষ্টি হলো এদিন। একইসাথে উপজেলায় ৬ হত্যাকান্ডের ঘটনা এই প্রথম। এদিকে ঘটনার পর নিহত শহিদ পরিবারসহ  গোটা উপজেলা এখনো শোকে মূহ্যমান। এক বছরেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি শোকাড়ত শহিদ পরিবারগুলো। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বিলাপ করছেন তারা।

 

এ ব্যপারে শহিদ ছানি আহমদের মা রুবিয়া বেগম বলেন, আমার পরিবার অভাব অনটনের মধ্যে চলছে। আমার ছেলে ছানি আহমদ রাজমিস্ত্রী সহকারীর কাজ করে পরিবারের হাল ধরেছিলো। দেশের জন্য আমার ছেলে শহিদ হয়েছে। শহিদ ছানি আহমদের সম্পর্কীয় মামা আব্দুল মালিক জানান, ছানি আহমদ শহিদ হওয়ার পর থেকে তার গোটা পরিবার একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। মা-বাবা শুধু কাঁদছেন।

 

শহিদ পাবেল আহমদ কামরুলের মা দিলারা বেগম বলেন, গত বছরের ৫আগষ্ট সকালে আমাকে ফোন দিয়ে বলে মা আমার জনঢ় দোয়া করিও আমি আন্দোলনে যাচ্ছি।

 

এসময় দেশের অবস্থা ভাল না থাকায় আমি আৃার ছেলে নিষেধ করি আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে আমার কথা শুনেনি। রাতে খবর পাই আমার ছেলে গুলিতে মারা গেছে। কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

এসময় তার চোখ থেকে অবিরাম অশ্রু ঝরছিল। তার পিতা রফিক উদ্দিন বলেন, আমার চেলে সিলেটে মাদ্রাসায় পড়ত। সর্বশেস গত বচরে ৩০ জুলাই বাড়ীতে আসছিল। এরপর আবার সে সিলেটে চলে যায়। ৫আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমার ছেলে মারা যায়। আমার ৪ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে পাবেল আহমদ কামরুল ছিল তৃতীয়।  আমার ছেলে দেশের জন্য শহুদ হয়েছে। তার যথাযত মূল্যায়ন হলে তার আত্মায় শান্তি পাবে। শহিদ পাবেল আহমদের বাড়ী উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিজ ঢাকাদক্ষিণ গ্রামে। তিনি ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন।

 

তিনি ইতোমধ্যে ৩০ পারার মধ্যে  ২৮পারা কোরআন শরীফ মুখস্থ করেছেন। আরও ২পারা শেস করার আগেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সনদও নিতে পারেননি পাবেল।

 

শহিদ গৌছ উদ্দিনের মা লেবু বেগম বলেন, আমার ছেলে গত বছরের ৪আগষ্ট ছাত্র-জনতার মিছিলে যায়। এসময় আমি তাকে মিছিলে যেতে নিষেধ করলে সে বলে আমার বাগনা মিচিলে গেছে। তাকে নিয়ে আসি।

 

একথা বলে গৌছ উদ্দিন মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়।  শহিদ গৌছ উদ্দিনের ভাই আবুল কালাম বলেন, আমার ভাই শহিদ গৌছ উদ্দিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে শহীদ দ হয়েচে। তার শোকে আমার গোটা পরিবার ভেতর পড়েছে।

 

শহিদ গৌ উদ্দিন ছিল পরিবারের একমাত্র উপাড়জনক্ষম লোক।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/হারিছ/ইকে