সিলেট থেকে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে একসময় জনপ্রিয় ছিল ‘লোকাল ট্রেন’। সময় ও খরচ বাঁচাতে অনেক যাত্রীর পছন্দের শীর্ষে ছিল ‘মেইল ট্রেন’ নামে পরিচিত এসব রেলগাড়ি। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিনই চলাচল করতো এই ট্রেন। গেল কয়েক বছর ধরে ইঞ্জিন সংকট দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘লোকাল ট্রেন’।
ফলে এখন আর ‘লোকাল ট্রেনের’ হুইসেলে স্থানীয় স্টেশনগুলোতে ব্যস্ততা বাড়ে না যাত্রীদের। এছাড়া ৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেট-আখাউড়া রুটের ডেমু ট্রেন। রেলপথের লোকাল বাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বেহাল সড়ক যোগাযোগ থেকে মুক্তি পেতে ফের লোকাল ট্রেন চালুর দাবি জানাচ্ছেন সিলেটবাসী।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, একসময় সিলেট-ঢাকা রুটে সুরমা, চট্টগ্রাম রুটে জালালাবাদ ও আখাউড়া পর্যন্ত কুশিয়ারা মেইল নামে লোকাল ট্রেন চলাচল করতো। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এই ট্রেনগুলো। বিশেষ করে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি ব্যবহার করতেন এই ট্রেনগুলো। স্বল্প ভাড়ায় যাত্রীরা পৌঁঁছে যেতেন গন্তব্যে।
বসার আসন না পেলেও সুযোগ মিলতো স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে ট্রেনে চড়ার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সিলেট থেকে সকল রুটের লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কবে কোন লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে সে তথ্য নেই সিলেট রেলওয়ে অফিসেও। যাত্রী চাহিদা থাকার পরও ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইঞ্জিন সংকটকেই দায়ি করছে কর্তৃপক্ষ।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে এখনো লোকাল ট্রেনের চাহিদা রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বেহাল হওয়ায় যাত্রীরা ট্রেনের দিকে ঝুঁকেছেন। কিন্তু ইঞ্জিন না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। কেবলমাত্র ইঞ্জিন পাওয়া গেলে যে কোন সময় লোকাল ট্রেন চালু করা সম্ভব।
শমসের নগরের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, আগে সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকার লোকজন লোকাল ট্রেনে চলে বাড়ি ফিরতেন। নিরাপদ বাহন ও সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে যাত্রীরা লোকাল ট্রেন পছন্দ করতেন। এখন লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট রীতিমতো সোনার হরিণ। ১০ দিন আগে অনলাইনে টিকেট ছাড়া হলেও ১০ মিনিটের মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। ফলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এদিকে, ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট-আখাউড়া রুটে একজোড়া ডেমু ট্রেন চালু হয়েছিল। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে আধুনিক এই ট্রেন চালু করা হলেও খুব বেশি দিন ঠেকেনি। টেনেটুনে মাত্র ৬ বছর চালানোর পর ২০১৯ সালের দিকে বিকল হয়ে পড়ে ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের ত্রুটি সারানোর জন্য নেওয়া হয় ঢাকায়। এরপর আর সিলেট-আখাউড়া রুটে লাইনে উঠেনি ডেমু ট্রেন। ফলে এই রুটের যাত্রীরা ডেমু ট্রেন সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হন।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম ডেমু ট্রেন প্রসঙ্গে বলেন, একসময় এ ট্রেন ভালো সার্ভিস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে সিলেট থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আর ফিরেনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




