দেশে-বিদেশে আজ আমি ৪৬ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আপাদমস্তক একজন অধ্যাপক ও ৪০ বছরের গবেষক। উপরের শিরোনামের ৩টি শব্দ বার বার উচ্চারন করে জপতে থাকুন ও ওগোলুর যিকির করতে থাকুন। দেখবেন, দেশের সব সমস্যার সমাধান আপনি-আপনি হয়ে গেছে এই যিকিরের কারণে। আপাততঃ বলার আর কী থাকতে পারে? কবির জ¦ালাময়ী কথা, শুনুনঃ
“বন্ধু গো, বড় বিষ-জ¦ালা এই বুকে,
দেখিয়া-শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি;
তাই, যাহা আসে কই মুখে”।
আমার পরিচয়টা সর্বাগ্রে উপরে দিলাম, যাতে কেউ আমাকে ভুল না বুঝেন।
১. ব্যুৎপত্তিবিজ্ঞান অনুসারে ইংলিশ “আর্মি” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষার শব্দ “arma থেকে| Reft “The Pocket Oxford Dictionary of Current English”, Compiled by F.G.Fowler & H.W.Fowler, 4th Edition, 1926 & 1942, Revised by H.G.-LE Mesurier and E. Mcintosh, published by AT THE Clarendon Press, 1953.
The 1st one gives the meanings “The Land-Forces of a State”, soldiers, troops, armed forces, military etc.
.
সহজ বাংলায়ঃ একটি দেশের পদাতিক বাহিনী, যাঁরা মাটিতে থাকিয়া মাটিতে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করে।
The 2nd one gives meanings as “The part of a country’s military forces that is organized and equipped for fighting on land”.
অর্থাৎ, অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যাঁরা মাটিতে-মাটিতে শত্রæর মোকাবেলা করে নিজেদের দেশ রক্ষার নিমিত্তে।
২. ইংলিশ “নেভি” শব্দটি ল্যাটিন ভাষার শব্দ “নেভিস্” থেকে উৎপন হয়েছে। বাংলা ভাষায় এটির অর্থ হচ্ছে “জাহাজ” এবং ইংরেজিতে “শিপ”। যুদ্ধের ক্ষেত্রে এটির অর্থ দাঁড়ায় “যুদ্ধ-জাহাজ”, বা একটি দেশের নৌ-যুদ্ধের শক্তি বা নেভেল-ফোর্স, যা মহা-সমুদ্রের নীচ দিয়েও যুদ্ধ করতে পারে।
৩. এ্যায়ার-ফোর্স এর এক অর্থ হচ্ছে “আকাশ-যানে” আকাশে আকাশে যুদ্ধ। ইংলিশ “এ্যায়ার” শব্দটি এসেছে গ্রীক ভাষার শব্দ “এ্য.ই.আর” থেকে, যেমন, “রয়্যেল এ্যায়ার-ফোর্স”। এ থেকে আরও বেরিয়ে এসেছেঃ “এ্যায়ারক্রাফ্ট”, “এ্যায়ার-শিপ”, ইত্যাদি।
৪. এ তিনটি শক্তি (পদাতিক+নৌ+এ্যায়ার) একত্রে নিয়ে হলোঃ একটি দেশের সামরিক শক্তি বা সেনা-শক্তি বা সেনা বাহিনী; জলে, স্থলে এবং আকাশে, যৌথ ও এককভাবে। যৌথ ও এককভাবে ধরে নিয়ে এ ৩টিই হলো আমাদের দেশ-রক্ষার এক নম্বর সামরিক শক্তি।
৫. আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ত রক্ষার্থে ২ নম্বর শক্তি হলো আগের বিডিআর, মানে, বর্তমান “বিজিবি”।
৬. বিডিআর নামের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি গন্ধ। তাই ওটা প্রথমেই বাদ পড়ল।
৭. এখন আমার জিজ্ঞাসাঃ “বিজিবি” নামটা কে দিল? বাংলাদেশের কেউ, না ভারতের কেউ, যেহেতু এ নামকরনটি হয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে, ৫৭ জন দেশদরদি সেনা-অফিসারের নিষ্ঠুর হত্যাকাÐের মধ্য দিয়ে, যেখানে রয়েছে ভারতের পূর্ণ সংশ্লিটতা?
৮. এদের বিচার কোথায়? একটির ফাঁসিও তো হলো না?
৯. আপত্তি আমার এখানেই। “বিজিবি”-র “জি” মানে “গার্ড”, মানে, এক অর্থে “চৌকিদার”। দেশমাতৃকার ২ নম্বর শক্তিকে “চৌকিদার” বানানোর এ দুঃসাহস কার হলো?
১০. বর্তমান সরকার এবং ভবিষ্যতে যারা আসবে, তাদের সবাইকে বলছিঃ “বিজিবি” নামটি অবশ্যই বদলাতে হবে, নাম হবে নি¤œরূপঃ
ক) বিবিএফ (বাংলাদেশ বোর্ডার ফোর্স), অথবা
খ) বিবিবি (বাংলাদেশ বোর্ডার ব্যাটেলিয়ন)।
১০. আবার ফিরে আসি আমার মূল কথায়।
প্রসঙ্গঃ “সেনাবাহিনী”।
তাঁরা থাকবেন তাঁদের ব্যারাকে। কারণ, তাঁদের সম্মানই আলাদা। “মিলিটারি” শব্দটি শুনলেই যেন গায়ে ঘাম ঝরে। এ রকম হবে তাঁদের ইমেজ।
১১. হেঁ, সেনাবাহিনী নামানো যাবে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের বেলায়, দেশের মানুষকে উদ্ধার করা বা বাঁচানোর জন্য। কিন্তু এখন দেখছি কী?ঃ
ক) রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে বা বেরিকেড বসিয়ে পাহরায় আছেন সেনারা।
এগুলো তো পুলিশের কাজ। সেনাবাহিনীর সম্মান নামছে কোথায়?
তা হলে, এক কাজ করা যায়ঃ
খ) দু’গ্রামের মানুষ মারামারি করছে, নামাও সেনাবাহিনীকে!
গ) পুকুরের মাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে, নামাও সেনাবাহিনী!
ঘ) স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করছে, নামাও সেনাবাহিনী!
ঙ) প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে, নামাও
সেনাবাহিনীকে!
চ) এক ব্যাটার গাছ আরেক ব্যাটা কেটে নিয়ে গেছে, নামাও সেনাবাহিনী!
ছ) রাস্তায় মাহুত তার হাতিকে দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা উঠাচ্ছে,
নামাও সেনাবাহিনী!
জ) এক মহিলার মুরগি চুরি হয়েছে, নামাও সেনাবাহিনী!
ঝ) কয়েকজন জুয়া খেলছে, নামাও সেনাবাহিনী!
ঞ) কয়েকজন মদ খাচ্ছে, নামাও সেনাবাহিনীকে!
সেনাবাহিনী কি এতই সস্থা? তাই, সেনাবাহিনীকে আমরা যেন তাঁদের জায়গায় থাকতে দেই; আর, চুন্ থেকে পান খসলেই সেনাবাহিনী তলব! এ কাল্চারের অবসান চাই।
এক পয়েন্টে সেনা দেখে আমি গাড়ি সাইড করছিলাম। এক সেনা হাত দিয়ে ইশারায় আমাকে চলে যেতে বললেন।
কিন্তু আমি নেমে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনারা কেন বাবারা? পুলিশ কোথায়”?
একজন ঊত্তর দিলেন, পুলিশ নাকি টাকা খেয়ে অবৈধ মালামাল বহন-কারি গাড়িকেও ছেড়ে দেয়, তাই, উনারাই মাঠে।
হায় পুলিশ! এখনো কি তা-ই চলে?
চেকপোষ্টে পাহারায় থাকবে পুলিশ। আর, যখন প্রয়োজন, সেনারা থাকবেন গাড়িতে করে টহল-রত অবস্থায়।
লেখক: প্রফেসর ড. মো.আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে-বিদেশে ৪৬ বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক।




