মা হিসেবে আপনি আপনার আদরের সন্তানকে সব ধরনের সমস্যা থেকে আগলে রাখতে চান। কিন্তু সর্বক্ষণ আগলে রাখা সত্ত্বেও আদরের সোনামনি টি  বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায়  ভুগতে পারে, কারণ এ সময় শিশু যা পায় তাই মুখে দেয় সবকিছুতেই হাত দেয় গোসলের সময় পানি খেয়ে ফেলে।

ছোট্ট শিশুদের ভেতরের সহজাত  সুরক্ষা ব্যবস্থা জীবনের শুরু থেকেই মজবুতভাবে গড়ে উঠা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে যে কোন সময় শিশুকে আক্রমণ করতে পারে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু যা শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশুর সহজাত সুরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করতে প্রোবায়োটিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


প্রোবায়োটিকস | Probiotics

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে  প্রোবায়োটিকস  "এক ধরনের জীবিত অনুজীব যা শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে গৃহীত হলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী "। প্রোবায়োটিকস মায়ের দুধে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। প্রোবায়টিকস বিভিন্ন  প্রকারের হতে পারে। এদের মধ্যে Lactobacilli এবং   Bifidobacteria  উল্লেখযোগ্য।

প্রোবায়োটিকস এর উপকারিতা

 বিভিন্ন ধরনের প্রোবায়োটিকস বিভিন্ন ধরনের উপকারী ভূমিকা পালন করে। যেমন  : 
বিশেষ ধরনের প্রোবায়োটিকস শিশুর রোগ  প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কিছু প্রোবায়োটিকস  শিশুর পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোন কোন প্রোবায়টিকস  শিশুর ডায়রিয়ার সময়সীমা ও তীব্রতা কমাতে সহায়ক। শিশুর এলার্জি হওয়ার প্রবণতা কমাতে প্রোবায়টিকস এর  জুড়ি নেই।

প্রোবায়টিকস এর উৎস 

শিশুর জন্য প্রবায়টিকস এর অন্যতম উৎস হচ্ছে মায়ের দুধ। মায়ের দুধে বিভিন্ন ধরনের প্রোবায়টিকস এর অনন্য সমন্বয় রয়েছে। এজন্য জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু  মাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

৬ মাস বয়সের পর থেকে শিশুর বাড়তি পুষ্টি চাহিদা পূরণে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার প্রয়োজন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ওর পরিপূরক খাবারেও যেন প্রোবায়টিক্ স এর সরবরাহ থাকে।

Probiotics এর আরেকটি ভালো উৎস হলো দই। শিশু যখন বাড়তি খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে, তখন থেকে ওকে নিয়মিত দই খেতে দিতে পারেন।

 

লেখক: মনজুরুল মাআবুদ, এম পি এইচ ( হেলথ এন্ড নিউট্রেশন) বিফার্মা। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল এসএমসি'র  ব্লু স্টার স্বাস্থ্য সেবা দানকারী।