এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই সিলেটে বাড়ছে প্রার্থীদের ভোট টানার কৌশল। সিলেটের ছয়টি আসনে সব সময় ইসলামি দলগুলো ভোটের মাঠে বড় নিয়ামক হয়ে দেখা দেয়। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রায় সব কটি জাতীয় নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর নেতারা হয় সংসদ সদস্য নতুবা দ্বিতীয় হয়েছেন। এবার ফুলতলী ঘরনার ভোট টানতে সিলেটের বেশ কয়েকজন প্রার্থী ভিড় করেছেন ফুলতলির দরবারে। সিলেট-৫ আসনের সাবেক সাংসদ ও আনজুমানে আল ইসলাহের সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর দোয়া ও ভোটটানতে কৌশলী ভূমিকা রাখছেন। তবে হুছামুদ্দীন ফুলতলী কাউকে পাকা কোন কথা দেন নাই বলে সূত্র জানায়।
সম্প্রতি নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার মাদ্রাসায় গিয়ে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী, কওমি ঘরনার আলেম খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুছলেহ উদ্দিন রাজু। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা দেখা করতে যান বলে জানা যায়। তবে অনেকেই এটি রাজনৈতিক সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।
জানা যায়, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কেটলি প্রতীকে নির্অচনে অংশ নেন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী। এরপর থেকে সিলেটের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তার দূরত্ব বাড়তে শুরু হয়। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে হুছামুদ্দীন চৌধুরীর সাক্ষাৎ আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেয় ওই সময়ে। বৈঠকের পর থেকে হুছামুদ্দীনের নির্বাচনী এলাকায় তার অনুসারীরা বিষয়টিকে ‘শুভ ইঙ্গিত’ বলে প্রচার শুরু করেন।
রাজনৈতিক সূত্র বলছে, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের ওবায়দুল হক এবং ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ওবায়দুল্লাহ ফারুক দ্বিতীয় এবং সপ্তম ও নবম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী দ্বিতীয় হন।
সূত্র জানায়, আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম। ফুলতলীর পীর হিসেবে দেশ জুড়ে পরিচিতি। সিলেট অঞ্চলে বিশাল ভোট ব্যাংক ফুলতলীর পীরের অনুসারীদের। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিষয়টির দেখভাল করেন ফুলতলী পীরের ছোট ছেলে হুসামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। তিনি সাবেক এমপি। স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। জয়ীও হন। ফুলতলীর ভোট চান সবাই। এ কারণে ইসালে সওয়াব মাহফিলে প্রার্থীদের আনাগোনা ছিল বেশি। দোয়া নিতে গেছেন সিলেট-৫ আসনসহ কয়েকটি আসনের প্রার্থীরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি




