ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিজয়ীদের সবাই নতুন। প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদে। এর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৫ জনের এর আগে জাতীয় সংসদে প্রার্থী হওয়ারই কোন অভিজ্ঞতা নেই। এবার জেলার ৬টি আসন থেকে ৩৩ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। একটি ছাড়া বাকিগুলোতে ছিল দ্বিমুখী লড়াই। নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ না পাওয়ায় ২০ প্রার্থীকেই হারাতে হয়েছে জামানত। 


সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি একই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে তিনি এবার জাতীয় সংসদে যাচ্ছে। 

এবার নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান পান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। আসনটিতে বৈধ ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৬ এর সাড়ে ১২ শতাংশ ৩৯ হাজার ৭৫২ ভোটের চেয়ে কম পাওয়ায় আসনটিতে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন। 

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শামীম মিয়া।

সিলেট-২ আসনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে বাতিল হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন লুনা। এবার নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুহা. মুনতাসির আলী ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট পাওয়ায় জামানত রক্ষা হয়েছে। আসনটিতে প্রদত্ত বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬।

সাড়ে ১২ শতাংশ তথা ২০ হাজার ৭ ভোটের চেয়ে কম পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দীন ও গণফোরামের মো. মুজিবুল হক।

সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মো. আবদুল মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম  প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু (রিকশা) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট। 


বৈধ ভোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪১ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ তথা ২৪ হাজার ৯৫৫ ভোটের চেয়ে কম পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মুস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও মইনুল বাকরের। মো. আবদুল মালিকের এর আগে কোন ধরনের নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা নেই। প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে বাজিমাত করেছেন তিনি। 


সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। আসনটিতে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৮। 


আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ডালিম। আরিফুল হক চৌধুরী এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশনে একবার কমিশনার ও দুইবার মেয়র নির্বাচিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

সিলেট-৫ আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন কেবলমাত্র বাংলাদেশ মুসলিমলীগের মো. বিলাল উদ্দিন। বাকি ৩ প্রার্থীর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) পেয়েছেন ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট।

এ আসনে বিজয়ী মুফতি আবুল হাসানও জীবনে প্রথম নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর আগে নির্বাচন করার কোন অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। 

সিলেট-৬ আসনে ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট। আসনটিতে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৮। 


সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পাওয়াায় জামানত হারিয়েছেন জমিয়তের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মাওলানা ফখরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুন নূর। আসনটিতে বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরীও প্রথমবার জাতীয় নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ