ঔষধ শিল্পের সাথে জড়িত পেশাজীবীদের তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে সেগুলো হলো : ১ গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট (এ গ্রেড), ২ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট (বি গ্রেড) ৩ ফার্মেসি টেকনিশিয়ান ( সি গ্রেড)
সি গ্রেড ফার্মাসিস্ট বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত ফার্মেসি সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সে সকল টেকনিশিয়ান।
মাধ্যমিক (এসএসসি) বা স্বীকৃত সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ও বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত তিন মাস মেয়াদী ফার্মেসি সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন কোর্সের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিলের অধীনে ফার্মেসী সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ফার্মেসি টেকনিশিয়ান হিসাবে নিবন্ধিত হওয়ার যোগ্য হবে।
বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে | বিশেষ করে (C-Grade) ফার্মাসিস্টরা, যারা সরাসরি রোগীদের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করেন—তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ | এই দায়িত্ব শুধু ওষুধ বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রোগীর নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মধ্যেও বিস্তৃত।
প্রথমত, একজন (C-Grade) ফার্মাসিস্টের প্রধান দায়িত্ব হলো রোগীকে সঠিক ওষুধ প্রদান করা | চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া, ডোজ এবং ব্যবহারের নিয়ম পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি | ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে | তাই এখানে সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত, রোগীকে ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা একজন দায়িত্বশীল ফার্মাসিস্টের অন্যতম কর্তব্য | অনেক সময় রোগীরা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না, ফলে অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্মুখীন হন | একজন সচেতন ফার্মাসিস্ট রোগীকে এসব বিষয়ে আগেই সতর্ক করতে পারেন, যা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
তৃতীয়ত, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রি থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা সেডেটিভ জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার সমাজে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে | একজন (C-Grade) ফার্মাসিস্টকে এই বিষয়ে কঠোর নৈতিক অবস্থান নিতে হবে।
চতুর্থত, রোগীর সাথে মানবিক আচরণ ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা জরুরি | অনেক রোগী অজ্ঞতা বা ভয়ের কারণে সঠিকভাবে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন না | একজন ভালো ফার্মাসিস্ট ধৈর্য সহকারে রোগীর কথা শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
পঞ্চমত, জরুরি অবস্থায় রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পাঠানোও একজন ফার্মাসিস্টের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে | সব সমস্যার সমাধান ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়, তাই পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, একজন (C-Grade) ফার্মাসিস্টের উচিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং নিজের জ্ঞান হালনাগাদ রাখা |প্রতিনিয়ত ওষুধ বাজারে নতুন নতুন প্রডাক্ট আসতেছে সেগুলোর আপডেট ইনফরমেশন নেওয়া একজন ফার্মাসিস্ট এর জন্য অতীব জরুরী | চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই রোগীর সর্বোত্তম সেবা দিতে হলে সর্বশেষ তথ্য জানা জরুরি।
সর্বোপরি, (C-Grade) ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ | তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা এবং পেশাদার আচরণ রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে | তাই তাদের প্রতি এই দায়িত্ব পালনে সচেতন ও আন্তরিক হওয়া সময়ের দাবি।
লেখক: মনজুরুল মাআবুদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (হেলথ এন্ড নিউট্রেশন) এসএমসি'র ব্লু স্টার স্বাস্থ্য সেবা দানকারী। বি ফার্মা। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল সদস্য। বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ঠ সমিতি।




