গত এপ্রিল মাসে রৌদ্রোজ্জ্বল এক দুপুরে ইউরোপের ছোট্ট দেশ মাল্টায় কথা হচ্ছিল খায়রুল ইসলাম নামে একজন রেমিটেন্স যোদ্ধার সঙ্গে। তিনি জানান, বৈধভাবে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে তিন মাস হয়েছে মাল্টায় এসেছেন। ভালো বেতন, থাকা-খাওয়ার খরচ কম।
খায়রুল আরও বলেন, ১৯ লাখ টাকা খরচ পড়েছে মাল্টায় আসতে।
তবে একই সময়ে তার আরেক বন্ধু ৮ লাখ টাকায় অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে এখন লিবিয়াতে মাফিয়ার হাতে আটক। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মাফিয়ার হাত ঘুরে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সে এখনো লিবিয়াতে মাফিয়ার হাতে নির্যাতিত হচ্ছে।
খায়রুলের সঙ্গে থাকা সদরুল নামে আরেক যুবক জানান, বৈধপথে সেনজেনভুক্ত দেশ হিসেবে এখন সবচেয়ে ভালো সুযোগ মাল্টাতে।
কথামতো কাজ, ভালো আয়, জিরো ক্রাইমের কারণে নিরাপদ এক দেশ। মাল্টা ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশ। ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার। পুরো দেশ পর্যটননির্ভর।
ফাস্ট কনসালটেন্সি লিমিটেড নামে মাল্টায় বৈধ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির পরিচালক রাসেল বিভান বলেন, মাল্টাতে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অপার সুযোগ। এখানে নিয়মকানুন ভালো, বৈধভাবে ৫ বছর কাজ করলে, স্থানীয় ভাষা জানলে ৫ বছরেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়। তিনি জানান, এই মুহূর্তে মাল্টায় রেস্টুরেন্ট, কফিশপ, সুপারশপ, হোটেলে প্রচুর রিক্রুটমেন্ট হচ্ছে। মাল্টা স্কিল টেস্ট পরীক্ষা পাসের পর ৩-৪ মাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হয়।
বেতন শুরু হয় ১২০০ ইউরোতে, যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো হয়। থাকা-খাওয়ার খরচ বাদে মাসে ১ লাখ টাকার ওপরে জমা করা যায়। রাসেল আরও জানান, মাল্টায় বাংলাদেশিদের জন্য ভালো সুযোগ থাকলেও রেপুটেশন খারাপ। মাল্টার ভিসা তুলে ইউরোপের অন্য দেশে চলে যাওয়ায় মাল্টাতে বাংলাদেশি কর্মী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আছে। অথচ মাল্টাতেই বৈধভাবে ভালো আয়ের সুযোগ রেখে ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধ হয়ে থাকার দিকে বাংলাদেশিদের ঝোঁক বেশি। ভালো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কেউ গেলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন




