সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনি চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানীর একমাত্র মাছ ধরার নৌকা চুরি হওয়ার ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। কৃষিকাজ ও মাছ ধরা—এই দুইয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারটি এখন জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক গোলাম রব্বানী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১১ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ কেয়ার জমির ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বাকি ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আমি ঋণগ্রস্ত,আমার ৮ কিয়ার জমি বন্ধক দেওয়া। এরই মধ্যে পরিবারের শেষ ভরসা হিসেবে থাকা মাছ ধরার নৌকাটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, নৌকা দিয়ে মাছ ধরে দুই ভাইয়ের সংসার কোনোমতে চালিয়ে নেওয়ার আশা ছিল। কিন্তু শেষ সম্বলটাও চোর নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম রব্বানীর পরিবারে মোট ১১ জন সদস্য রয়েছেন। দুই ভাইয়ের যৌথ পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসার। হাওরাঞ্চলের অন্যান্য পরিবারের মতো হেমন্ত মৌসুমে কৃষিকাজ এবং বর্ষাকালে মাছ ধরার ওপরই নির্ভর করে তাদের জীবিকা।
এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর মাছ ধরা ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু নৌকা চুরির ঘটনায় সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরাঞ্চলে নৌকা শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং অনেক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। এমন পরিস্থিতিতে কৃষক গোলাম রব্বানীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নৌকাটি উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/এসডি-০৪



