ছবি: সিলেট ভিউ।

নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে অবশেষে সিলেট থেকে চলে যাচ্ছেন সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তার পরিবর্তে সিলেটের জেলা প্রশাসকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনে কোনো এক সময়ে মো. সারওয়ার আলম সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন বলে জানা গেছে।

 

সোমবার (২২ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।

 

তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনে কোনো এক সময়ে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন। এবং পরবর্তী সময়ে নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্বে না আসা পর্যন্ত সিলেটের জেলা প্রশাসকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।

 

এর আগে রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

 

উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শণে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় একটি প্রধান দানবাক্সসহ ছোট-ছোট আরও কয়েকটি দানবাক্স মাজারের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে। পাশাপাশি এই দানবাক্সের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া পরবর্তীতে মাজারের দানবাক্সের উপরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর পরপরই ডিসির এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন সারওয়ার আলম।

 

প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সর্বশেষ সোমবার (২২ জুন) প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে প্রথমবারের মতো হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। এ গণনায় মাজারের তিনটি ডেগ ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নগদ অর্থ এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া যায়।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া