অভিযুক্ত স্বামী জহিরুল ইসলাম (বাবলু) ও মোসা. রিমা আক্তার মাহফুজা।

মোসা. রিমা আক্তার মাহফুজা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জহিরুল ইসলাম (বাবলু) ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।


মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত রিমা আক্তার মাহফুজার বাবার বাড়ি উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরকাঠী গ্রামে। তিনি মো. আমজেদ গাজীর মেয়ে।
 

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপাশা গ্রামের মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্য আরেক সন্তানটি ছয় বছর বয়সে মারা যায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘটনার দিন ব্যবসার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তাকে অমানবিক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং মারা যান বলে দাবি করেন স্বজনরা।
 

তাদের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের উদ্দেশ্যে নিহতের মুখে কীটনাশক জাতীয় ট্যাবলেট দেওয়া হয়। পরে মোবাইলে খবর পেয়ে রিমার স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন বুধবার (২৪ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে বাবার বাড়িতে তার দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাওসার হোসেন বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবলু (৩৮), দেবর সিরাজুল ইসলাম সোহেল (৩৬), শ্বশুর ইউনুস হাওলাদার (৬০), শাশুড়ি সেতারা বেগম (৫৫), দেবরের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন রয়েছেন।
 

অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের (বাবলু) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

জহিরুল ইসলামের এক প্রতিবেশী জানান, গত রাত থেকেই তারা বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৩