লাল-সবুজের পতাকা, ঢাকের বোল, বাউলের একতারা আর প্রবাসী প্রাণের উচ্ছ্বাসে ব্রঙ্কসের বাংলা বাজার যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন (বাকা) আয়োজিত একাদশ গোল্ডেন এজ বাংলা মেলা ২৮ জুন (রবিবার) দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মিলনমেলায়।
সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের কলকাকলি, নারীদের জামদানি-শাড়ির রঙ আর তরুণদের পাঞ্জাবিতে সেজেছিল পুরো এলাকা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত এবং বাকার থিম সং-এর সুরে সুর মিলিয়ে শত শত রঙিন বেলুন আকাশে উড়িয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের সিইও শাহ নেওয়াজ। ঐতিহাসিক এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সারওয়ার চৌধুরী।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু ও সাবেক সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকনের সার্বিক পরিচালনায় এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ বদরুজ্জামান রুহেল ও বিশিষ্ট উপস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আশরাফুল হাসান বুলবুল-এর প্রাণবন্ত যৌথ উপস্থাপনায় উদ্বোধনী পর্বটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

উদ্বোধনী মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, রানু নেওয়াজ, যুক্তরাজ্য থেকে আগত নুকপ সংসদ যুক্তরাজ্যের সভাপতি জুবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী, ওয়ারেন সিটি ক্রাইম কমিশনার সুমন কবির, তাহমীদ চৌধুরী, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড নাইনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার, বিশিষ্ট রিয়েলেটর সেলিনা উদ্দিন, এনওয়াইপিডি লেফটেন্যান্ট বিলাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ মাসুদ রহমান, সিপিএ আহাদ আলী, রিয়েলটর সালেহ উদ্দিন, ব্রোকার আকিব হোসেন, এডভোকেট রেজওয়ানা সেতু, সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি লোকমান হোসেন লুকু, এবং সহ সভাপতি ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক মাকসুদা আহমেদ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি লোকমান হোসেন লুকু, সহ সভাপতি ফয়সল আহমেদ, মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ, শাহ কামাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ রনি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সালমা সুমী, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান জামান রানা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজমুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহ ইকবাল রাজু, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশিকুল হক, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আলিমুল ইসলাম বান্টি, স্কুল শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইসকন্দর আলী মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক এমডি লুৎফুর রহমান, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি মায়া এন্জেলিনা, কার্যকরী পরিষদের চৌধুরী মোমিত তানিম, জুবায়ের আহমেদ, মিথিলা শারমিন বাঁধন, শেখ শাকিল হোসেন শিমুল।
মেলায় কমিউনিটির আলোকিত মুখ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, জুনেদ চৌধুরী, মেরি জোবাইদা, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রকিব মন্টু, বেলা ইসলাম, সিপিএ জাকির চৌধুরী, কাওসারুজ্জামান কয়েছ, রোমানা আহমেদ, খাইরুল ইসলাম পাখি, সৈয়দ এনাম আহমেদ, আব্দুর রব কাওসার, শেখ জামাল হোসেন, ইমরান শাহ রন, ফারমিস আকতার, জামাল আহমেদ, রিয়েলটর আজাদ, মাসুম আহমেদ, সোহান আহমেদ টুটুল, রেজা আব্দুল্লাহ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, এমদাদ দিপু, মোতাসিম বিল্লাহ তুষার, সিদ্দিকুর রহমান সুমন প্রমুখ।
বিকেল গড়াতেই সাংস্কৃতিক মঞ্চে জমে ওঠে বাঙালিয়ানার সুর। মাটির টানে মন ভেজানো গান পরিবেশন করেন বাউল কালা মিয়া, রন্টি দাশ, রেশমী মির্জা, স্বপ্নীল সজিব, অনিক রাজ, এজাজ আহমেদ। তাদের সুরে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ওঠেন। নৃত্যের ছন্দে মঞ্চ আলোকিত করেন নিউইয়র্কের উদীয়মান নৃত্যশিল্পী মায়া এন্জেলিনা।

পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বাংলাদেশের লেখক, কবি, সাধক ও মনীষীদের ছবি ও বাণী সম্বলিত বর্ণিল ফেস্টুনে, যা প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্টলে স্টলে পিঠা-পুলি, ফুচকা আর দেশীয় হস্তশিল্পের সমারোহে ছিল ঘরোয়া আবহ।
সমাপনী পর্বে সংগঠনের সভাপতি সারওয়ার চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ বদরুজ্জামান রুহেল আগত দশ সহস্রাধিক দর্শক-শ্রোতা, স্পন্সর এবং সর্বস্তরের সহযোগীদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েও বাঙালিয়ানা যে নিরবধি, এই মেলাই তার প্রমাণ। সবার ভালোবাসায় বাকার এই সাংস্কৃতিক যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসবিআর/পিডি



