ছবি: সংগৃহিত

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, সনাতন ধর্মালম্বীরা সংখ্যালঘু নন, আমাদের সকলের পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী। আপনারা নিজেদেরকে ছোট করে না দেখে আসুন হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমরা স্বাধীনভাবে নিজেরা নিজেদের ধর্ম পালন করব এবং সকল ভালো কাজে একে অপরকে সহযোগীতা করব, আর আইন মেনে অপরাধীদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে সবাই সবাইকে সহযোগীতা করব।

 


তিনি আরোও বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ৮ দফা দাবী’সহ সনাতন ধর্মালম্বীদের সকল দাবী আদায়ের ব্যাপারে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। আর বিএনপি যেহেতু উন্নয়নবান্ধব সরকার, সেহেতু পর্যায়ক্রমে দেশের অবহেলিত ও বঞ্চিত জনসাধারণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে।

 

তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা বলেন, স্বাধীন এই দেশে আমরা সংখ্যালঘুরা নিজেদের নিরাপত্তা চাই। সমঅধিকার ও সমমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকলে পারলেই আমাদের চলবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থাকা আমাদের ৮ দফা দাবী সঠিকভাবে পূরণ করা হলে এদেশে সংখ্যালঘুদের আর কোন দাবী থাকবে না। আর এটি বাস্তবায়নে সরকারের সু-দৃষ্টিকামনা করছি।

 

বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুনিল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে এবং সদস্য কাজল মালাকার ও গোবিন্দ মালাকারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দু জ্যোতি দে, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সিলেট মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল দে, বিশ্বনাথ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি রুপক কুমার দেব।

 

বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কানু রঞ্জন দেব, পূজা বিষয়ক সম্পাদক বিজয় দেব, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মাস্টার অজিত দেব, জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি বাবুল কান্তি দাশ মেঘল, হিন্দু কমিউনিটি নেতা ঝলক আচার্য্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা থেকে পাঠ করেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী দেবু ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. বিভাংশু গুন বিভু।

 

দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে সুনিল কান্তি দে’কে সভাপতি, কানু রঞ্জন দেব’কে সাধারণ সম্পাদক, গোবিন্দ মালাকার ও কাজল মালাকার যুগ্ম সম্পাদক এবং সুমন দেব’কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্র ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈনুল হক, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, কাওছার খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, নানু মিয়া, মো। শাহজাহান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন মামুন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান রিপন, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা সেবুল মিয়া, মোমিন খান মুন্না, পৌর কৃষক দলের আহবায়ক নূর আলী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সামছুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক ওয়াসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, যুগ্ম আহবায়ক রাসেল আহমদ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মজিদ বকুল, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ’সহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রনঞ্জয়/ইকে