২০২৬ সালের শুরু থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূগর্ভস্থ জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) সাম্প্রতিক ভূ-ভূকম্পন মানচিত্র অনুযায়ী, বছরের প্রধান কম্পনগুলোর বড় একটি অংশই ঘনীভূত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় চরম ঝুঁকিপূর্ণ টেকটোনিক অঞ্চল ‘রিং অব ফায়ার’ বরাবর।
 

বছরের প্রথম আট মাসেই এ অঞ্চলে প্রায় ১০টি বড় আকারের ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।


বছরের প্রথম প্রকম্পনটি শুরু হয় মালয়েশিয়ার কোটা বেলুদে, যেখানে ২২ ফেব্রুয়ারি ৭.১ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর পরপরই মার্চ মাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টঙ্গার নিয়াফুতে ৭.৫ এবং ভানুয়াতুর লুগানভিলে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
 

এপ্রিলের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়ার বিতুং অঞ্চলে ৭.৪ মাত্রা এবং ২০ এপ্রিলে জাপানের মিয়াকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।

এরপর জুন মাসে মহাদেশজুড়ে আঘাত হানে সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ভূকম্পন—৭ জুনে ফিলিপাইনের কাবলালা অঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল এ বছরের এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন।
 

এর কয়েক সপ্তাহের মাথায় ২৪ জুনে দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলার সান ফেলিপে ও কাতিয়া লা মারে যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাসেরোতে ৭.৩ মাত্রা এবং সর্বশেষ গেল সোমবার (১০ আগস্ট) কলম্বিয়ার সান হোসে দেল পালমারে ৭.৪ মাত্রার কম্পনে প্রকম্পিত হয় পুরো দেশ।

মানচিত্রের এই উপাত্তের বাইরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে এসব দেশের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর।

সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে ভেনেজুয়েলায়; মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে ৬ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং ১১ হাজারের বেশি আহত হন। উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরা প্রদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বহুতল ভবনসহ দেশজুড়ে অর্ধলক্ষাধিক ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে।
 

অন্যদিকে, ফিলিপাইনের কাবলালায় আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূকম্পনে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে এবং লক্ষাধিক বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ১০ আগস্ট কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশে সৃষ্ট ভূকম্পনে ক্যালি শহরের বেশ কিছু বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসিতে ৭.৪ মাত্রার আঘাতে ৪৫০টিরও বেশি হাসপাতাল, গির্জা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও জাপান ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সুনামি সতর্কতা জারি ও উপকূল খালি করায় বড় ধরনের অবকাঠামো ধস বা গণ-প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৪