ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ দুই উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লক্ষ গ্রাহক। দুই উপজেলায় দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এরমধ্যে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ আসায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা। ঘন-ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জামও।

 


এদিকে, দীর্ঘসময় লোডশেডিং বা বৈদ্যুতিক সঞ্চালন না হলে অথবা কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে অফিসের সরকারি অভিযোগ কেন্দ্রে কল দিলেও রিসিভ করেন না কেউ। এতে করে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে চরম নিরাপত্তহীনতায় দিন পার করছেন সাধারণ মানুষ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও গত রবিবার রাত ৮টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎহীন ছিলেন কয়েক হাজার গ্রাহক। বারবার অভিযোগ কেন্দ্রে কল দিয়ে সাড়া না পেয়ে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের সরকারি মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। পরে বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেলেও এর স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ২০মিনিট। আবারো লোডশেডিং। রাত তিনটার দিকে স্বাভাবিক হয় বিদ্যুৎ সেবা। এমন ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা।


       
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং বা যান্ত্রিক ত্রুটি হলে তাও গ্রাহকদের জানানো প্রয়োজন। কিন্তু গ্রাহকদের না জানিয়ে দীর্ঘ লোডশেডিং করায় তারা ক্ষুব্ধ। ঘন-ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে বলে মনে করছেন সাধারণ গ্রাহক।

 

কয়েকজন গ্রাহক জানান, আগের তুলনায় বিদুৎ বিল বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু সেবা বাড়েনি। কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা দৃশ্যমান কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই দীর্ঘসময় বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। দেড় ঘণ্টা পরপর বিদুৎ যায়, আর আসে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের জন্য। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

 

মকসুদ তুহিন নামের একজন গ্রাহক বলেন, গত শনিবার রাতে ন্যাশনাল ব্যাংক তাজপুর শাখায় বিদ্যুতের লাইনে আগুন লাগার পর কাশিকাপন জোনাল অফিসে কয়েকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দুজন টহল পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করান। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা মিলেছে। গ্রাহকদের কল রিসিভ না করলে দুর্ঘটনায় ক্ষতি হলে এর দায় কে নিবে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

 

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর আওতাধীন কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ফয়জুল হক বলেন, আমাদের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, সেখানে আমরা পাচ্ছি ৭-৮ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন গ্রাহক সেবা সম্ভব নয়। তাই লোডশেডিং করতে হয়। ৩৩ কেভি গ্রিড লাইনে ত্রুটি থাকায় গতকাল কিছু সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তা সামধান করা হয়েছে। অতিরক্তি বিল আসার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/রনিক/ইকে-০২