সিলেটের বিয়ানীবাজারের উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট 'তৌহিদী জনতার' বাঁধার মুখে আলোচিত সেই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বাহাদুরপুর গাংপার এলাকায় হাজারো দর্শকের উপস্থিতি ঘটে নৌকাবাইচকে ঘিরে।
নৌকা বাইচ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট-৬ আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মো: মাহফুজুল করিম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এম এ বাতিন,বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা, লাউতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো.গৌছ উদ্দিন।
সম্প্রতি বাহাদুরপর গাংপার এলাকার নদীভাঙনকবলিত এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে-এমন স্থানে বাইচ না হওয়া নিয়ে একটি পক্ষ প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। তবে সামাজিক মাধ্যমে তৌহিদী জনতার নামে পোস্টার ছড়িয়ে বিষয়টি বিতর্কিত করে একটি মহল।
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হলে (২২ আগস্ট) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। এতে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। ওই সময় কথিত 'তৌহিদী জনতার' পক্ষকে ছাড়াই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরবর্তী বছরে আর হবে না শর্তে নৌকা বাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী,আজ ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যটিকে আমরা ধরে রাখতে চাই। আমি এখানে এসে দেখছি এখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। ইনশাআল্লাহ প্রতিবছর এটি ভবিষ্যতেও এমন আরো আয়োজন হোক আমরা চাই। নৌকা বাইচের জন্য এই নৌকা বাইচে যেসব ক্ষতি হবে আমরা সব মেরামত করবো। এই এলাকার কয়েকটি রাস্তার কাজ আমরা হাতে নিয়েছি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে ফাইনাল পর্বে শরীফগঞ্জ ও কালীজুরী নৌকা, তাদের মধ্যে একটি সৃষ্ট সমস্যায় প্রতিযোগিতার ফলাফল অমীমাংসিত রয়ে যায়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হাফিজুর/এসডি-১৭




