হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে এই ঘটনায় আইনের আশ্রয় না নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার টাকায়। সালিশে নির্ধারণ হওয়া ৯০ হাজারের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবার হাতে পেয়েছে ২০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে হানিফ মিয়া (২৫) কৌশলে ওই কিশোরীকে তাঁর ঘরে ডেকে এনে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত হানিফ পালিয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের মধ্যস্থতায় গোয়ালনগর গ্রামে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের এক সাবেক চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক মেয়েটির মাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকা ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়ার তারিখ ধার্য করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, মামলা চালানোর ক্ষমতা নেই। বাধ্য হয়ে মেম্বারের মাধ্যমে সমাধান মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু ৯০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও আমাদের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।'
সালিসে মধ্যস্থতাকারী ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান জানান, ওই সালিশে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে এবং বাকি টাকার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাকি টাকা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। তাঁরা আইনগত সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তাদের পাশে থাকবে। ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি স্থানীয়ভাবে কয়েকজন সালিশের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। সালিশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/আশিক-০৮




