চোরাই মোটরসাইকেলের নতুন রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সিলেট সীমান্ত। আগে সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে চোরাকারবারিরা গরু, মহিষ, নিত্যপণ্য, প্রসাধনী সামগ্রী ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরণের জিনিসপত্র ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতো। এখন এসব চোরাইপণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেলের নাম।
ভারত থেকে চোরাইপথে আনা এসব মোটরসাইকেল সিলেটে ‘বর্ডারক্রস বাইক’ নামে পরিচিত। সীমান্তের চোরাইপথ পেরিয়ে এসব ‘বর্ডারক্রস বাইক’ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ সিন্ডিকেটের ৯ সদস্যকে আটক করে। এরপর সিলেট সীমান্ত দিয়ে আনা চোরাই মোটরসাইকেলের দেশজুড়ে থাকা নেটওয়ার্কের প্রমাণ পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ঘেঁষা সিলেট সীমান্তকে মোটরসাইকেল চোরাচালানের জন্য বেছে নিয়েছে সিন্ডিকেট। ওই অঞ্চলের সীমান্ত এলাকা দুর্গম হওয়ায় বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারিরা সহজেই বাংলাদেশে মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। ভারতে দাম অর্ধেকের চেয়ে কম হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েও চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন।
বর্ডারক্রসের জন্য তারা সুনামগঞ্জের বাংলাবাজার, সিলেটের কালাইরাগ, মিনাটিলা, সংগ্রাম, বিছনাকান্দি, প্রতাপপুর ও শ্রীপুর সীমান্ত বেশি ব্যবহার করে থাকে। সূত্র জানায়, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা মোটরসাইকেল বাংলাদেশে এনে প্রথমে সীমান্ত এলাকার কোন বাড়ি বা গুদামে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সুযোগ বুঝে আনা হয় সিলেটে। সেখান থেকে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে কিছু মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর টেম্পারিং করে জাল কাগজপত্র দিয়ে বিআরটিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়া হয়।
রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল অপেক্ষাকৃত অধিক দামে বিক্রি করে থাকে চোরাকারবারিরা। বাজার মূল্যের চেয়ে কমে পাওয়ায় ক্রেতা জেনেশুনে ‘বর্ডারক্রস বাইক’ কিনে থাকেন। মাঝে মধ্যে র্যাব-পুলিশের অভিযানে এসব মোটরসাইকেল ধরাও পড়ে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকার কাটাজঙ্গল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে অভিযান চালায় গোয়ান্দা পুলিশ। এসময় ছয়টি মোটরসাইকেলসহ ৯ যুবককে আটক করা হয়। আটককৃতদের সবাই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে- জব্দকৃত ছয়টি মোটরসাইকেল সিলেট সীমান্ত দিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাংলাদেশে এনেছিল।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি শামছুল আলম শাহ্ গণমাধ্যমকে জানান, রাত আড়াইটার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে করে ৯ জন কাটাজঙ্গল এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদেরকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা মোটরসাইকেলের বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, সিলেট সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এগুলো কুমিল্লা, ফেনী ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নিয়ে যাচ্ছিল।
এদিকে, গত ২৮ আগস্ট সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা একটি ভারতীয় মোটরসাইকেল জব্দ করেন। এর আগেও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় এনফিল্ডসহ বিভিন্ন ধরণের মোটরসাইকেল জব্দ করে বিজিবি।
সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেল চোরাচালান প্রসঙ্গে জানতে বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার এএসপি সম্রাট তালুকদার জানান, ‘বর্ডারক্রস বাইক’ কেনাবেচা রোধে এবং এই সিন্ডিকেটে জড়িতদের গ্রেফতারে জেলার সকল থানাপুলিশ তৎপর রয়েছে। কোথাও এরকম মোটরসাইকেলের খবর পেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জব্দ করছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




