‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এর যৌথ উদ্যোগে আজ সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পলিউশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টেকসই নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর কৌশল নির্ধারণের জন্য আয়োজিত এই সেমিনারে সিসিক, পরিবেশ অধিদপ্তর, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী এবং তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, নারী উদ্যোক্তা শামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী।
সেমিনারের শুরুতে লাফার্জহোলসিম এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উইং 'জিওসাইকেল'-এর ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়। এরপর নগরীরর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন এবং জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরেন হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
পুরো সেমিনারেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অবস্থিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর অগ্রগতি ও অবদানের বিষয়টি। দেশের প্রথম সর্বাধুনিক প্লাস্টিক পৃথকীকরণ প্ল্যান্ট হিসেবে এটি ২০২৪ সালে সিসিক এবং লাফার্জহোলসিম যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে সিলেটের সার্কুলার ইকোনমি কৌশলের একটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে এই প্ল্যান্টটি। এটি অপচনশীল প্লাস্টিক আলাদা করে এবং যা নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিম এর ছাতকে অবস্থিত জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়। এই বর্তমান অপারেশনাল সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে, লাফার্জহোলসিম এবং সিসিক একটি বায়ো-ড্রাইং প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। এই নতুন প্রযুক্তি পৌর কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও এর আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করবে, যা প্লাস্টিক বর্জ্য কার্যকরভাবে পৃথকীকরণ নিশ্চিত করবে।
নগর টেকসইকরণের প্রতি কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের সাথে জোরালো সামাজিক অংশগ্রহণ ও আইনি কাঠামোর সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য হলো কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আধুনিক অবকাঠামো এবং ধারাবাহিক জনসচেতনতার মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি শহর গড়ে তোলা।”
সার্কুলার ইকোনমি সমাধানে বেসরকারি খাতের ভূমিকা তুলে ধরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, “লাফার্জহোলসিম এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা জিওসাইকেলের মাধ্যমে দেশজুড়ে টেকসই উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে এই অংশীদারিত্ব আমাদের নিরাপদ কো-প্রসেসিং সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা প্লাস্টিক বর্জ্যকে ল্যান্ডফিল ও নদীতে পড়া থেকে রক্ষা করে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সুন্দর আগামী গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।”
পৌরসভার পরিচালনগত কৌশল তুলে ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার যোগ করে বলেন, “কার্যকর পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের ক্রমবর্ধমান নগরায়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেটকে দেশের মডেল হিসেবে স্থাপন করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি স্থাপন এর মধ্যে অন্যতম। সামনের দিনগুলোতে এই ফ্যাসিলিটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীতে প্লাস্টিক দুষণমুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
জিওসাইকেলের মাধ্যমে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কো-প্রসেসিং সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে, যা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমায় এবং দেশব্যাপী ‘জিরো-ওয়েস্ট’ উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করে। এই যৌথ সেমিনারটি সিলেটজুড়ে সার্কুলার ইকোনমির চর্চাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নগর কর্তৃপক্ষ ও কর্পোরেট নেতৃত্বের এক যৌথ অঙ্গীকারের মাধ্যমে শেষ হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/আশিক-০৭






