সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে নেওয়ার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে প্রায় ৩৫ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর সোমবার রাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মুক্তি দেওয়া হলেও তারা এখনো ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না। কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা থাকায় তারা ক্যাম্পাসে আটকা রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারবেন না।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে এর পুরো কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে শিক্ষক-কর্মকর্তারা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে সোমবার সিটি প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর রাতে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয় এবং অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্ত করা হয়। তবে প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে রাখায় মুক্তির পরও তারা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইইই বিভাগের তানভীর আহমদ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাহাদ ফয়সাল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এ কারণে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, *দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ সময়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষক-কর্মকর্তারাও ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পৃথক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে। তা সম্ভব না হলে অন্তত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে হবে। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ বা রদবদল মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলতে দেখা যায়। আন্দোলনের কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান দুপুরে বলেন, শিক্ষার্থীরা ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা ঝুলিয়ে রাখায় কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া। তা সম্ভব না হলে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সংকট দূর করার দাবিও রয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠক হয়। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করার উদ্যোগ এবং বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সিটি প্রশাসক। পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। তিনটি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে কলেজটিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/-মআস-০৯






