ছবি: সংগৃহিত।

সিলেটের আখালিয়াস্থ সুরমা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা ও ফি আদায়সহ কলেজের প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন ।


 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, মিডটার্ম, রিটেন ও টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মিডটার্ম ও রিটেন পরীক্ষার ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।


একই সঙ্গে হাসপাতালে রাতের ডিউটি শেষে সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, রাতের ডিউটি ও সকালের পরীক্ষা একই সময়ে চলায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।


এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে চার ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে মিডটার্ম ও রিটেন পরীক্ষার জন্য পৃথক ফি নেওয়া হচ্ছে। এসব ফি আদায়ের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

 

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে রাতের ডিউটি করার পর সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও ডিউটি ও পরীক্ষা—দুটিই একসঙ্গে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানানো হলেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

 

এদিকে, কলেজের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।


কলেজের অধ্যক্ষ সাইয়েদা ইয়াসমীনের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে বিভিন্ন সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তবে পরীক্ষায় মোট কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কলেজ অধ্যক্ষ চায় নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা । অন্যদিকে  অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা চায় অনুষ্টিত প্রশ্নে পরীক্ষা।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২/আশিক-০৭