সিলেটকে একসময় বলা হতো দিঘির শহর। দিঘির নামানুসারে হয়েছে শহরের অনেক এলাকার নাম। কিন্তু দখল আর দূষণে ঐতিহ্যবাহী এসব দিঘির বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে। দিঘির নামে নামকরণ হওয়া এলাকাগুলো আছে। কিন্তু বাস্তবে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী দিঘিগুলো। এলাকার নামের মধ্যে অদৃশ্য অস্তিত্ব নিয়ে যেন বেঁচে আছে সিলেট নগরীর শত শত দিঘি। আর এখনো যেসব দিঘির অস্তিত্ব টিকে আছে সেগুলোর দখল আর দূষণের শিকার।
 

দিঘিগুলো ভরাটের কারণে পাড়া-মহল্লার ভেতর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে পানি পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরীতে বেড়েছে জলাবদ্ধতাও। তবে স্বস্তির খবর, দীর্ঘদিন থেকে মরতে বসা জলাশয়গুলো উদ্ধারে এবার মনযোগী হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
 


এই মিশনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তিনটি পুকুর ও দিঘি উদ্ধার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো দিঘি ও পুকুর উদ্ধার ও সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় সিলেট নগরের ভেতরে কয়েকশ পুকুর ও দিঘি ছিল। গোটা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দিঘিগুলোর বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ভরাট হয়ে গেছে। ১৯৯৭ সালে বিশালাকার লালদিঘি ভরাট করে তৎকালনি সিলেট পৌরসভা। এরপর দিঘির জায়গায় কয়েক হাজার দোকানকোটার দুটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। চারাদিঘিতে সিসিকের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে স্কুল ও মসজিদ। বেকা দিঘিতে গড়ে ওঠেছে সার্কিটহাউস ও জালালাবাদ পার্ক। ধোপাদিঘির একাংশ ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক ও মসজিদ। রেডক্রিসেন্টও ভরাট করেছে দীঘির একাংশ। ইলেকট্রিক সাপ্লাই দীঘিটি ভরাট করে পিডিবি নির্মাণ করেছে অবকাঠামো। ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় মাছুদীঘি, রামেরদীঘিসহ বেশ কয়েকটি দীঘি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনো যেসব দীঘির অস্তিত্ব টিকে আছে সেগুলোর বেশিরভাগই দূষণের শিকার। সিসিকের উদ্যোগে কিছু দীঘি উদ্ধার করে বেষ্টনি দেওয়া হলেও দূষণের কারণে সেগুলোর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
 

এই অবস্থায় নগরের ভেতরের দিঘি, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয় রক্ষার মিশনে নেমেছে সিসিক। ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইতোমধ্যে তিনটি দিঘি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে খোজারখলা দিঘি, কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন দিঘি ও ঘাসিটুলা দিঘি।
 

সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরের পুকুর, দীঘি ও জলাশয় দখল হয়েছে। জলাধারগুলো ধ্বংস হওয়ায় এখন জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সিসিকের উদ্যোগে কয়েকটি দীঘি রক্ষা করা হয়েছে। যেসব দীঘি দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সেগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো রক্ষা করা হবে।
 

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “একসময় নগরীতে প্রচুর দিঘি, পুকুর ও জলাশয় ছিল। যা মানুষের উপকারে আসার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত। আমরা চাই জলাশয়গুলো যথাসম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। এর ধারাবাহিকতায় উদ্ধার কাজ শুর হয়েছে। এসব জলাশয় উদ্ধারের পর চারপাশে ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং স্থাপন করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে নগরবাসী পুকুরপাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন।”

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/এসডি-২৩