নিজের মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ এনে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কানাডা প্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী এবং তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির অংশীদার হন এবং যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি বাটোয়ারনামা সম্পাদিত হয়। ওই বাটোয়ারনামা অনুযায়ী সুবিদবাজারস্থ ব্র্যাক ব্যাংক ভবনের অর্ধাংশ এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ভূমির অর্ধাংশ তাঁদের প্রাপ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়।



তিনি অভিযোগ করেন, পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার ও ব্র্যাক ব্যাংককে ভাড়া দেয়া চার তলা ভবন জবরদখল করে রেখেছেন তাঁদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) ও মা বুলবুল নাহার চৌধুরীসহ সহযোগীরা। এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর বোনের নিযুক্ত আমমোক্তার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ও গালিগালাজ করা হয়। তাঁরা প্রবাসে থাকার সুযোগে ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরী, মাসুক মিয়া ও নওশেবা ফারাহ তুনা তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। ওই ভুয়া আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে দীর্ঘ ৫ বছর ব্র্যাক ব্যাংক সুবিদবাজার শাখা থেকে তাঁদের প্রাপ্য অর্ধাংশ ভাড়ার আনুমানিক ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।


মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই প্রতারণার বিচার চেয়ে তাঁরা সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন এবং আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশ দেন।


তিনি বলেন, প্রতারণা এড়াতে গত ২২ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁরা Declaration To Revoke The General Power of Attorney সম্পাদন করেছেন। এর মাধ্যমে কথিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সকল কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। ফলে উক্ত দলিলের ভিত্তিতে করা যেকোনো লেনদেন বা চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য হবে।


তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমণ্ডিতে অবস্থিত তাঁদের পৈত্রিক বাড়ি জবরদখল করে রেখেছেন। তিনি ২০২৫ সালে দেশে এসে সুষ্ঠু বণ্টনের কথা বললে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) বাটোয়ারানাম অমান্য করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে তাঁদেরকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়।


এ অবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরীর দাবি, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ও ভুয়া দলিল সৃষ্টিকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধার, জবরদখলকৃত জমি ও ভবন প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেয়া।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী এবং তাঁর বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরীর প্রবাসে অবস্থানকালে দেশে তাঁদের সকল কার্যক্রম তদারকির কাজে নিয়োজিত মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/আশিক-১১