হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে শিম চাষ হওয়ায় কৃষি খাতে সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মাঠজুড়ে সবুজ শিমগাছ, সাদা ফুল আর গাছে গাছে ঝুলে থাকা শিমে কৃষকের মনে জাগছে ভালো ফলন ও লাভের প্রত্যাশা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিমখেতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউ আবার ফলন বাড়াতে জমিতে প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও পানি ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম বজায় থাকলে এ মৌসুমে শিম চাষ থেকে আশানুরূপ আয় করার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
জগদীশপুর এলাকার শিমচাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম টিক থাকলে শিম চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন।
শিম স্থানীয় বাজারে একটি জনপ্রিয় সবজি। এ কারণে মাধবপুরের অনেক কৃষক শিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি, জমির পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে ব্যয়ের পাশাপাশি ফলনের পরিমাণ এবং বাজারদরের ওপর কৃষকের লাভ নির্ভর করছে। উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে এ আবাদ হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে শিম চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। সঠিক পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য পান, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। শিমের উৎপাদন বাড়াতে এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে চলতি মৌসুমে মাধবপুরের শিমচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ার মাধ্যমে ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামিম/ইকে-০৯





