ছবি: সিলেট ভিউ।

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মহাষষ্ঠী থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা সুসম্পন্ন হয়েছে। ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর ঘণ্টা আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে মন্ডপে মন্ডপে চলে দেবী দুর্গার বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনব্যাপী নানান আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজার পরিসমাপ্তি হয়। তবে উপজেলার ৩১টি পূজা মন্ডপের অস্থায়ী মন্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় সুনির্দিষ্ট জলাশয়ে।

 


রংবেরংয়ে সজ্জিত মন্ডপগুলোতে ধর্মীয় রীতিনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূজার এই উৎসবের আমেজকে বাড়িয়ে দিতে প্রতি রাতেই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মঞ্চস্থ করা হয় সামাজিক নাটক। পরিবেশিত হয় ধামাইল গান, নৃত্য ও বাউল গান। পূজায় মন্ডপের বাহিরে বসে মেলার আসর। দুর দুরান্ত থেকে আগত পূজারী ও দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন ছিল ভোগ প্রসাদের।

 

শাল্লার পূজা মন্ডপগুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি টিম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সহ আরো অনেকেই। দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাজে নিয়োজিত ছিল পূজা আয়োজক কমিটি, সেচ্ছাসেবক, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহনে দুর্গাপূজা রূপ নেয় সার্বজনীন উৎসবে।

 

এ ব্যাপারে শাল্লা সদরস্থ ঘুঙ্গিয়ারগাঁও সরকার বাড়ির পূজা কমিটির সভাপতি রনধীর সরকার বাবুল জানান, আমাদের এই মন্দিরে শতবছরের অধিক সময় যাবত দুর্গাপূজা করে আসছি। মা দুর্গার আগমনে আমরা সবাই খুশি কিন্তু বিদায় বেলায় খুব কষ্ট পাই। মা দুর্গা যেন অসুরদের বিনাশ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেন সেই জন্য আমরা প্রার্থনা করি৷ তবে সবার সহযোগিতায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে আমাদের দুর্গাপূজার সমাপ্ত হয়েছে।

 

এদিকে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা জানান, আমাদের শাল্লা সম্প্রীতির মেলবন্ধনে রয়েছি। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের পূজা অত্যন্ত চমৎকার ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন তালুকদার সুজন বলেন, আমাদের প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শাল্লার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়। কিছু পূজামণ্ডপে ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এগুলো পূজার সৌন্দর্যকে আরো গভীর করে তুলেছে। ধর্মীয় সংগীতের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ও পূজায় নিয়োজিত সবার আন্তরিক সহযোগিতায় দুর্গাপূজা হয়েছে অত্যন্ত চমৎকার ও উৎসবমুখর।

 

শাল্লায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রতিনিধি টিমের সদস্য বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল জানান, আমরা মাননীয় এমপি নাছির চৌধুরী নির্দেশনায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছি৷ তিনি সার্বক্ষণিক প্রতিটি পূজার খোঁজখবর নিয়েছেন। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি। আমাদের দলের পক্ষ থেকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন করতে নেতৃবৃন্দরা সহযোগিতা করেন।

 

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, শাল্লায় ৩১টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পূজা মন্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা সহ সব ধরনের কার্যক্রম আমরা পালন করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা লগ্ন থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/আশিক-০৬