ছবি: ফাইল ছবি।
সিলেটের ওসমানীনগরে সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হালিমা বেগম (৩০)। একই দুর্ঘটনায় তাঁর নবজাতক সন্তানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সিলেটের একটি বেসরকারী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত হালিমা নিহত হালিমা বেগম উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে হালিমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে ওই দুর্ঘটনায় হালিমার মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া, ননদ ইমা বেগম ও অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমান আহত হয়েছিলেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন হালিমা বেগম। রবিবার (১ নভেম্বর) নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে নবজাতক ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথিমধ্যে রাত ৮টার দিকে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা হালিমা বেগম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
জানা গেছে নিহত হালিমার স্বামী প্রবাসী রাজু মিয়া। গত শুক্রবার তিনি কন্যাসন্তানের পিতা হন। এটাই তাঁদের প্রথম সন্তান। সন্তান জন্মের খবরে খুব খুশি হয়েছিলেন রাজু। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। স্ত্রী–সন্তানের এমন অবস্থার কথা শুনে সৌদি আরবে থাকা রাজু মিয়াও ভেঙে পড়েছেন। প্রবাসে তিনি নিজেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সেখানে থাকা স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী। এ ঘটনায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আশিক-১৯




