ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উল্লেখযোগ্য বিজয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে দলটি। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে।

 


তবে নির্বাচনী বিজয়ের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণ করা।

 

যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় মানুষ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সহিংসতার অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা মানুষের প্রত্যাশা। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার দাবি সামনে এসেছে। নতুন কংগ্রেস আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

 

অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের অন্যতম উদ্বেগ স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়। সবার জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো নতুন কংগ্রেসের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে থাকবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ব্যয় কমানো এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।

 

ৌলিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষ চায় একটি ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা। ঘৃণা, বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য ও রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে মানুষ চায় ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য। ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা যেন মানুষের মধ্যে বিভেদের দেয়াল তৈরি না করে, বরং সবাই যেন সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।

 

বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্য, আইন প্রণয়নের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সব প্রত্যাশা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। নির্বাচনে বিজয় অর্জন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ দুটি ভিন্ন বিষয়। আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তারা কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার ওপর।

 

সবশেষে প্রশ্ন একটাই—এই রাজনৈতিক পরিবর্তন কি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিত শান্তি, অর্থনৈতিক স্বস্তি, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে?

 

সেই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী দিনের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে।

 

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী, মিশিগান।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম ডেস্ক ইকে-০৮