ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে এক দিনেই পৃথক তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল, মসজিদ এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে একটি প্রাইভেট কার চুরি হয়েছে। তিন ঘটনায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫০ টাকা। ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, শনিবার ভোরে উত্তর গোয়ালাবাজারে ব্যবসায়ী ঝিনুক কুমার পালের দোকানের শাটারের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় তারা। যাওয়ার আগে দোকানের সিসি ক্যামেরার সংযোগ তারও কেটে দেয় চোরেরা। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে আরএফএল মোটর, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টপ কক, মুভিং পিলার কক, টুইন বিব কক, অ্যাঙ্গেল স্টপ কক ও বেসিন মিক্সার। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ১৮ হাজার ১৫০ টাকা।
দোকানের ডিভিআর মেশিনে সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে। দোকানমালিকের ধারণা, চুরি হওয়া মালামাল একটি মিনি পিকআপে করে শেরপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দোকানের বিপরীত পাশে অবস্থিত ইসমাইল ইলেকট্রিকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ৬ নভেম্বর রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত একটি মিনি পিকআপকে সন্দেহজনকভাবে পার্কিং অবস্থায় দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী ঝিনুক কুমার পাল বলেন, দোকানের শাটারের তালা কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এমনকি দোকানের সিসি ক্যামেরার সংযোগ তারও কেটে দিয়েছে। পাশের প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় একটি মিনি পিকআপের সন্দেহজনক অবস্থান দেখা গেছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোয়ালাবাজার উত্তর জামে মসজিদ এলাকা থেকে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুহাম্মদ আজাদ আলীর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। Honda Livo মডেলের মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সিলেট মেট্রো-হ-১১-৭৯৪৩। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
মুহাম্মদ আজাদ আলী জানান, প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলটি মসজিদের পাশে রেখে তিনি নামাজ ও মসজিদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে বাইরে এসে মোটরসাইকেলটি আর দেখতে পাননি। আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও সেটির সন্ধান মেলেনি। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ৯টার দিকে গোয়ালাবাজারের ‘আড্ডাখানা’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেট কার চুরি হয়। গাড়িটির মালিক উপজেলার পূর্ব সিরাজনগর গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মো. সিজান আহমদ (২৬)। তিনি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়ার সময় গাড়িটি সামনে রেখে যান। রাত ১০টার দিকে খাবার শেষে বাইরে এসে দেখেন, গাড়িটি সেখানে নেই।
চুরি হওয়া গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১১-১৩৪৩। ১৯৯১ মডেলের ১৫০০ সিসির গাড়িটি তিনি সম্প্রতি ৩ লাখ ৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
সিজান আহমদ বলেন, রাত ৯টার দিকে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়ে গাড়িটি সামনে রেখে যান। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখেন, গাড়িটি নেই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। কষ্ট করে কেনা গাড়িটি হারিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত গাড়িটি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
একই দিনে গোয়ালাবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় তিনটি পৃথক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা কেটে মালামাল চুরি, মসজিদ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল এবং রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে প্রাইভেট কার চুরির ঘটনায় বাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় বাজার এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
চুরির ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘রবিবার রাত ১১টা পর্যন্ত চুরির ঘটনায় জড়িত কাউকেই আটক করা যায় নি। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পাশাপাশি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১৫




