সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন-কাফনের টাকা অন্য কেউ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। এ দুটি বিষয় উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মো. ময়মনা খাতুন সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি এ অভিযোগ (ডক নম্বর-৬১/২৭/০২/২২) দেন। ময়মনা খাতুন উপজেলার পাড়ুয়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মো. আ. মতলিবের স্ত্রী।


ময়মনা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারের তরফ থেকে দেওয়া দাফন-কাফনের টাকা উপজেলা প্রশাসন থেকে অন্য কেউ উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজংয়ের কাছে জানতে গেলে তিনি ময়মনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাঁকে অফিস বের করে দেন।

লিখিত অভিযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আ. মতলিবের স্ত্রী ময়মনা খাতুন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মতলিব। তাঁর মৃত্যুর পর সরকার থেকে দাফন-কাফন বাবদ যে টাকা দেওয়া হয় তারা তিনি ও তাঁর পরিবারের কেউ উত্তোলন করেননি। কিন্তু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানতে পারেন, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কে বা কারা টিপসই দিয়ে ওই টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ময়মনা ও তাঁর ছেলে আলমগীর আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে বিষয়টি অবগত করামাত্রই নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং উত্তেজিত হয়ে তাদের গালমন্দ করে কার্যালয় থেকে তাড়িয়ে দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিবের ছেলে আলমগীর আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে সরকার যে দাফন-কাফনের টাকা দেয় সেই টাকা আমরা পাইনি। ইউএনও অফিস থেকে জানতে পারি আমার বাবার দাফন-কাফনের টাকা টিপসই দিয়ে কে উঠিয়ে নিয়েছে। এই টাকা আমাদেরকে না দিয়ে কাকে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি জানার জন্য আমার মাকে নিয়ে আমি ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। অফিসে গিয়ে চেয়ারে বসার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন কী কারণে অফিসে গেলাম। আমরা বিষয়টি বলতেই তিনি বলেন, তোমাদের কোন কমনসেন্স নেই। কখন অফিসে ঢুকতে হয় তা জান না। অফিসে কত গোপনীয় কাজ থাকতে পারে তা না জেনেই অফিসে ঢুকে চেয়ারেও বসে গেলে। এরপর উচ্চস্বরে ধমক দিয়ে তিনি অফিস থেকে বের করে দেন।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেটভিউ-কে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর সঙ্গে আমি দুর্ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠে না। ওই নারীর সঙ্গে সেদিন আমার কোনো কথাই হয়নি। তবে তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। অন্য কেউ টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেদিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয় সেদিন আরও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। অনেকের স্ত্রী সরাসরি নিতে না পারলেও পরিবারের অন্য সদস্য নিয়েছেন। এদিন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ড-এর সভাপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর শনাক্তকরণের মাধ্যমে আমরা মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যের হাতে দাফন-কাফনের টাকা তুলে দেই। তারপরও যদি ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার সে টাকা না পেয়ে থাকে অথবা অন্য কেউ নিয়ে থাকে তবে বিষয়টি খুঁজে বের বরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম