ছবি : মো. মোজাম্মেল হক
‘আমি ডিউটিত গেছলামগি। আমার ডিউটি শেষ অয় বিকাল ৩টার সময়। ডিউটি থাকি স্কুলও গেছলাম। ইখান থাকি বাসাত আইয়া দেখি সব শেষ। ঘর পুড়িয়া ছাই, মারা গেছইন আমার শ্বাশুড়ি।’
ধরা গলায় কথাগুলো বলছিলেন আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া শোভা রানী চন্দ (৮০)-এর পুত্রবধূ।
শনিবার (৫ মার্চ) বিকালে সিলেট নগরীর গোয়াবাড়ির একটি বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোভা রানী চন্দ নামের ওই প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা মারা গেছেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের মজিদপুর গ্রামের মৃত সত্যন্দ্র চন্দের স্ত্রী। ছেলের পরিবারের সঙ্গে তিনি গোয়াবাড়িতে থাকতেন। এ ঘটনায় এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, গোয়াবাড়ির মোহনা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ২৪ নং বাসাটি মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশার। টিনশেড এই বাসার একটি ইউনিটে জগন্নাথপুর উজেলার মজিদপুর গ্রামের মৃত সতিন্দ্র চন্দের ছেলে দোলন চন্দ তার মা সোভা রানী চন্দ (৮০), স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তান প্রান্ত চন্দ (১৪) ও প্রসান্ত চন্দ (৮)-কে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। দোলন ও তার স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন।
শনিবার (৫ মার্চ) সকালে দোলন চন্দ এবং তার স্ত্রী নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। দিনের কোনো এক সময় তাদের দুই সন্তান প্রান্ত ও প্রসান্ত গ্যাসের চুলার উপর কাপড় শুকানোর জন্য রেখে পাশের রুমে টিভি দেখতে চলে যায়। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে হঠাৎ গ্যাসের চুলা থেকে আগুন কাপড়ে লেগে সমস্ত ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দোলনের বয়োঃবৃদ্ধা শারীরিক প্রতিবন্ধী মা সোভা রানী চন্দ রান্নাঘরের পাশে একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে প্রান্ত ও প্রসান্ত ঘর থেকে বের হয়ে গলেও সোভা রানী বের হতে পারেননি। ফলে মুহুর্তেই আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আশরাফ উল্যাহ তাহের আরও জানান, স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ অগ্নিকাণ্ডে ওই বাসার ৪টি ইউনিটের মোট ৮টি ঘর, ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকা।
তবে স্থানীয়রা জানান, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডা মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশার এ বাসায় মোট ৮টি পরিবার ভাড়া থাকেন। এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া সিলেটভিউ-কে বলেন, বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এর আগেই ওই বৃদ্ধা আগুনে পুড়ে মারা যান। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডে ১৪ বছরের এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




