উঠে গেছে বিধিনিষেধ। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়াতে দীর্ঘসময় পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পুরোদমে পাঠদান। এতে আনন্দে ভাসছেন সিলেটসহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। আর আনন্দের সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছে আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উৎসবেও। সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উৎসব ২০২২। গেলবারের মতো এবছরও এই আসরের ভেন্যু ছিল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এ যেন প্রাণের মেলা।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ এই চারটি জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয় এই উৎসবে। এবছর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ২১০ জন, নবম থেকে দশম শ্রেণির ৫৪৯ জন এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২২৭ জনসহ তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে সিলেট আঞ্চলিক উৎসবে মোট ৯০১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই পরীক্ষা নেওয়া হয়।
শনিবার (১৯ মার্চ) সকাল নয়টায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সকাল সাড়ে নটায় সমবেত কন্ঠে তারা পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত। এসময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাসহ আয়োজক ও সহযোগী সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তফা সামসুজ্জামান , বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি প্রফেসর ড. আ খ ম গোলাম সারোয়ার, সিলেট অঞ্চলের সভাপতি প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড এবং সমকালের সিলেট ব্যুরো স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল আহম্মদ বাবলু ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিডিবিও সিলেট আঞ্চলিক কমিটির সহ সভাপতিমন্ডলী, সিলেট অঞ্চলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তাসফিয়া তাহজিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাহিদ হাসানসহ ১০০ জন এনজাইম ও সমকাল সুহৃদের সদস্যবৃন্দ।
সকাল সাড়ে দশটায় সিলেট অঞ্চলের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিডিবিও সিলেট আঞ্চলিক কমিটির সহ সভাপতি প্রফেসর ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েে প্রফেসর ড. শরিফুন্নেছা মুনমুন, প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান এবং সহকারি প্রফেসর ড. কাজি জিন্নাহ ।
দুপুর আড়াইটায় আঞ্চলিক উৎসবের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে ৪৯ জন, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ১১৪ জন এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ৪৪ জনসহ সর্বমোট ২০০ জনকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৮৬.০৭ নম্বর পেয়ে সরকারি অগ্রগামি গার্লস স্কুল ও কলেজের স্বাস্তিকা পাল, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৮৫.৫৩ নম্বর পেয়ে ব্লু বার্ড হাই স্কুল ও কলেজের হিমেল দাস পরাগ এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬৯.০৯ নম্বর অর্জন করেন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অন্তর দন্ত।
এবারের উৎসবে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণকারী (শিক্ষার্থী) প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামি একাডেমি এন্ড হাই স্কুল এবং সর্বোচ্চ বিজয়ী (শিক্ষার্থী) প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি




