ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র উপকারভোগী তালিকা তৈরীতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ১হাজার ১৫৩ জনের মধ্যে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী ও ধনী ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। এ ছাড়া ইউপি সদস্যদের বিত্তশালী স্বজনদের নামও রয়েছে এ তালিকায়।
অতি দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে উপকারভোগী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেটি মানা হয়নি এ ইউনিয়নে। বঞ্চিতদের অভিযোগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা তাদের নিজেদের ইচ্ছেমতো স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজস্ব লোকজনদের তালিকাভুক্ত করে সরকারের একটি জনহিতকর মহৎ কাজকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিজেদের ইচ্ছেমত করা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে করোনাকালিন সময়ে তালিকাভুক্ত প্রায় সকলই।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারনে এবং পবিত্র রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে ন্যায্যমূলে তেল, ডাল ও চিনি পৌছে দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে অসহাদের তালিকা প্রস্তত করার কথা।
এখানে করোনাকালিন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করা অহসায়দের নাম রেখে টিসিবি’র তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। করোনাকালিন সময়ে উপকারভোগী অসহায়দের শতকরা ৫ ভাগও টিসিবি’র তালিকাতে স্থান পায়নি। এতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে বঞ্চিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী, অর্ধশত বিঘা জমির মালিক, পাকা ভবনের মালিক, ইউপি মেম্বারদের আত্মীয়-স্বজন, স্বচ্ছল ও সরকারি সুবিধাভোগী লোকজনদের উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
১ হাজার ১৫৩ জনের তালিকায় প্রবাসী পরিবারের সদস্য ৫নং ওয়ার্ডের তয়ফুর রহমান, শাহ নাছির আহমদ, তাজুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, লাল মিয়া, ছামির আলী, আব্দুল রকিব, আব্দুল খালিছসহ যুক্তরাজ্য, সৌদি, ফ্রান্স, ইটালী, গ্রীস, আফ্রিকা, দুবাই, কাতার, স্পেনে থাকা অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের লোকজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইউনিয়ন চেয়াম্যানের চাচাতো ভাই আখলু মিয়া, ভাগ্নে তুহিন আহমদ সহ প্রচুর ধন সম্পদ ও পাকা বাড়ীর মালিক, বড় ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যদের টিসিবি’র তালিকায় রাখা হয়েছে।
বর্তমান ইউপি সদস্যের পুত্র ইফতেকার আলম মারুফ, মাদাসা শিক্ষকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, চাকুরীজীবীর স্ত্রী রহিমা বেগম, ব্যবসায়ীর স্ত্রী সালমা বেগমও তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। চেয়ারম্যান-মেম্বাদের করা এ তালিকা দেখে ইউনিয়নের অসহায় মানুষের চোখ কপালে উঠে গেছে। গোটা ইউনিয়ন জুড়েই করা হয়েছে এমন অসঙ্গতিপূর্ন তালিকা। ইতিমধ্যে ওই তালিকায় স্থান পাওয়া সকলেই প্রথম দফার পন্য ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।
এলাকার বঞ্চিত বিরন্দ্রে সরকার, সাজন মিয়া, আব্দুল মজিদ সহ লোজকন জানান, করোনাকালিন সময়ে তারা বিভিন্ন সরকারী সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু টিসিবি’র তালিকা কখন কিভাবে করা হয়েছে তারা জানেনা। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অনুগত লোকজন এবং আত্মীয়-স্বজন ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা টিসিবি’র তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে তাদের মতো প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠি আসন্ন রমজান মাসে ন্যায্য মূল্যে সরকারী পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুগত লোকজনকে টিসিবি’র উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।
এ ব্যাপারে ইউপি শুভ দাস এ ব্যাপারে জানান, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আলম জানান, সরকাররের নির্দেশনা মেনেই অসহায়দের তালিকা করা হয়েছে। নামের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় কিছু নাম বাদ পড়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অনিচ্ছাকৃত কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। পরবর্তিতে তা সংশোধন করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএ/এসডি-০৫




