সিলেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন হাজার হাজার যানবাহন। যদিও সরকারি হিসেবে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন মাত্র ৪ হাজার। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ- জাফলং-বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারিকে কেন্দ্র করে সিলেটের আঞ্চলিক রাস্তাগুলোতে চলছে কয়েক হাজার ট্রাক। বেশিরভাগ ট্রাকেরই কাগজপত্র হালনাগাদ নেই। আবার অনেক সড়কে চলছে যান্ত্রিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ বাসসহ সকল প্রকার গণপরিবহন। করোনার অজুহাতে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।


অন্যদিকে, সিলেটে লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছেন ৪০ হাজারের মতো।

বিআরটিএ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী- সিলেটে রেজিস্ট্রেশনকৃত যানবাহন রয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৮শ ১৪টি। এরমধ্যে ব্যক্তিগত কার-বাস-মিনিবাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশাসহ মোটরসাইকেলও রয়েছে। এর বিপরীতে পেশাদার-অপেশাদার মিলিয়ে সর্বমোট চালক রয়েছেন প্রায় ৮৬ হাজার ৬শ ৭৯ জন। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়- প্রায় ৪০ হাজার ১শ ৩৫টি যানবাহনের চালকের কোনো লাইসেন্স নেই।

বিআরটিএ জানায়, সিলেট জেলায় রয়েছে ৯৯ হাজার ৪শ ৪৬টি যানবাহন। এর বাইরে সিলেট মহানগরীর এলাকায় রয়েছে ২৭ হাজার ৩শ ৬৮টি যানবাহন। সব মিলিয়ে যানবাহন সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৮শ ১৪টি। এরমধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ৮৮ হাজার ১৪টি, সিএনজি অটোরিকশা ১৮ হাজার ৮শ ৪৬টি, কার-বাস-মিনিবাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, লেগুনাসহ অন্যান্য গণপরিবহন ১৯ হাজার ৮শ ২৮টি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই যানবাহনগুলোর মধ্যে হালনাগাদ কাগজপত্র রয়েছে ৩৪ হাজার ৬শ ৭১টির। সেই তথ্যমতে সিলেটে ফিটনেসবিহীন যানবাহন রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৩টি।

অপরদিকে বিআরটিএ সিলেট কার্যালয় থেকে জানা যায়- ২০১৪ সাল থেকে সিলেটে সিএনজি অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রয়েছে। তবে  সড়কে কমেনি সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা। রেজিস্ট্রেশনবিহীন কয়েক হাজার অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিলেটের পথে পথে। আর এসব অটোরিকশা চলছে পুলিশ এবং বিআরটিএকে ম্যানেজ করেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে আম্বরখানা থেকে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কুমারগাঁও তেমুখি থেকে শিবেরবাজার, টিলাগড় থেকে কানাইঘাট, দক্ষিণ সুরমা থেকে গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বিয়ানীবাজারসহ সবকটা রুটে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা। ট্রাফিক পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা আটক করলেও পুনরায় বেরিয়ে সড়কে চলে আসে।

অপরদিকে পরিবহন মালিক, বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন পুরোনো গাড়ি কয়েক বছর পর পরই রং করা হয়। বাইরের অংশ চকচকে করার জন্য অনেক সময় পুরো বডিই বদলে ফেলা হয়। নগরীর কদমতলী, মোমিনখলা, শিববাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরনো যানবাহনে রং করার বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক মিনিবাস রং করাই হয় না। এসব গাড়িতে নেই সিগন্যাল লাইট ও লুকিং গ্লাস। পরবর্তীতে বাসগুলো সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-তামাবিল-জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সিলেট-বিশ্বনাথ, সিলেট -শেরপুর, বড়লেখা, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জসহ সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচল করে।

অন্যদিকে সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারিকে ঘিরে রয়েছে ট্রাকের চলাচল। বিআরটিএ-এর হিসেবে, সিলেটে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত মাত্র ৩ হাজার ৮৬টি ট্রাকের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং ও যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানা অব্যাহত রাখা হয়েছে। একেকটি গাড়িকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন অসংখ্য গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুধু পুলিশ কিছু করতে পারবে না। বিআরটিএ-কেও পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. সানাউল হক বলেন, করোনার কারণে অভিযান বন্ধ ছিলো, তাবে আবার শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধেও অভিযান পুনরায় শুরু হবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম