সিলেটের ওসমানীনগরে ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক বৃদ্ধ। থানায় দেয়া অভিযোগ তুলে আনতে বার বার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন চাচা। ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের দক্ষিন তাজপুর গ্রামের মৃত হবিব উল্যার পুত্র আব্দুল হামিদ (৭৫) এই ব্যাপারে থানা পুলিশের দারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিন তাজপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ ও তার আপন ভাতিজা মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র আব্দুল আউয়ালের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে গত ৩১ মার্চ রাতে বাড়ির পাশের রাস্তায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ভাতিজা আব্দুল আউয়াল তার চাচা আব্দুল হামিদের উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বৃদ্ধ আব্দুল হামিদের মাথায় ও হাতে গুরুতর জখম হয়। এসময় আব্দুল হামিদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে আব্দুল হামিদের মাথায় ও হাতে পৃথক স্থানে ১২টি সেলাই দেয়া হয়েছে।


পরে তিনি হামলার ঘটনায় বাদি হয়ে ভাতিজা আব্দুল আউয়ালকে আসামী করে গত ২ এপ্রিল ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে আব্দুল হামিদ ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল হামিদ।

আহত আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমার ভাতিজার হামলায় আহত হয়ে আমি বিছানায় পরে আছি। থানায় অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না। ঘটনায় পর থেকে থানায় অভিযোগ দিলে আব্দুল আউয়াল নানাভাবে আমি এবং আমার পরিবাকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছি আমরা।’

বিষয়টি অস্বীকার করে ভাতিজা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের জায়গা আমাদের নাম বাদ দিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমার চাচা আব্দুল হামিদ বিক্রি করে দিয়েছেন। ঘটনার দিন রাতে বাড়ির সকল আলো নিভিয়ে আমার উপর হামলার চেষ্টা চালান আব্দুল হামিদ ও তার পুত্র আতাউর। আমি কোন হামলা করিনি। এটি আমার চাচি হওয়ারুন বেগমের সাজানো নাটক।’
 

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এস.আই. স্বাধীন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের পর হুমকি ধামকি দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি