সিলেটে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত পল্লী চিকিৎসক মো. নিজাম উদ্দিনের (৪৫) জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১০ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে সাহেবেরবাজার শাহী ঈদগাহে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এর আগে ময়না তদন্ত শেষে নিজাম উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, সাহেবের বাজার ঈদগাঁহ কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াছ আলী মেম্বার, সাহেবের বাজার হাফিজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা শামসুর রহমান, এডভোকেট আবুল হোসেন, সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমির সভাপতি মো. ইকলাল আহমদ, খাদিম নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পল্লী চিকিৎসক জালাল উদ্দীন, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনছার আলী, সাহেবের বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. আরব আলী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, এডভোকেট নুরুল আমিন, ইমাম উদ্দিন, সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, সাহেবের বাজার গ্র্যাজুয়েশন ক্রিকেট ফোরামের পরিচালক জসিম উদ্দিন, মুহিত হোসেন, ইমরান আলী তালুকদার, আব্দুস সালাম, আব্দুল বাছিত, কাওছার আহমদ, সাংবাদিক ইদ্রিছ আলী, মতিউর রহমান, শ্রমীক নেতা আব্দুল খালিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন এবং শ্রেণি-পেশার  হাজার হাজার মানুষ।

গতকাল শনিবার (৯ এপ্রিল) ভোর ছয়টার দিকে উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবেরবাজার এলাকার সাতগাছি হাওরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নিহত হন। তিনি সাহেবেরবাজার এলাকার ঘোড়ামারা গ্রামের মরহুম বশির উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাহেবেরবাজার এলাকার সাতগাছি গ্রামের রাস্তা সংলগ্ন জমি নিয়ে নিজাম ও নয়ন মিয়ার লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’পক্ষই ওই জমি চাষাবাদ থেকে বিরত থাকবেন। আর সালিশকারীরা নিজেদের মানুষ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি চাষাবাদ করান। তাদের ভাষ্যমতে, বিচারে জমির মালিকানা যে পাবে, তারা ফসল নেবেন।

এ অবস্থায় শনিবার সকালে অর্ধ শতাধিক লোক নিয়ে নয়ন মিয়া পক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমির পাকা ধান কাটতে গেলে পল্লী চিকিৎসক আকরাম উদ্দিন ও তার ভাই পল্লী চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন তার আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ধান কাটতে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন নিজাম উদ্দিনের মাথায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আকরাম উদ্দিন (৪৫) ফয়ছল (২৬), ফয়েজ (৫০), ছগন (৫৫), ইসলাম (২৮), সালমান (২৫), জাকির হোসেনের (৩৫) অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- ওই গ্রামের আজিজুর রহমান (৪২), ছয়ফুল আলম (৪০), মকবুল মিয়া (৪১) ও সমছুল আলম (৪২)।

এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির রবিবার সিলেটভিউকে বলেন, এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। ময়না তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


সিলেটভিউ২৪ডিটকম / ডালিম