লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভোগ্যপন্যের দাম। প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে আর গড়ছে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। আর এতে করে মধ্যবিত্ত আর নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। তবুও থেমে থাকে না জীবন যাত্রা। 


বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য গরু-ছাগলের মাংস খাওয়া এখন অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত হয়ে গেছে। তারপর আবার ব্যবসায়ীদের কারসাজি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি। যা সাধারণ মানুষের জন্য রীতিমতো নাভিশ্বাস হয়ে দাড়িয়েছে। 



দুই বছর আগেও যেখানে এক কেজি গরুর মাংস পাওয়া যেত ৫০০ টাকায় সেখানে বর্তমানে সেই মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা। যা দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের আয় এর চেয়ে কম। ফলে এসব মানুষের পক্ষে আর গরুর মাংস কেনা সম্ভব হয়ে উঠছে না। যদিও বাজারদর ঠিক রাখতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। করা হচ্ছে জেল-জরিমানাও। 


খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জ শহরের সবচেয়ে বড় মাংস বিক্রির বাজার হচ্ছে শায়েস্তাগর বাজার। এছাড়াও চৌধুরী বাজার, বগলা বাজার, সিনেমাহল বাজারসহ শহর ও শহরতলীর আশপাশের আরো কয়েকটি বাজারে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। আর এসব বাজারের কসাইরা যে যার মত করে মাংস বিক্রি করছে। নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। মানা হচ্ছে না পৌরসভার বেঁধে দেয়া নির্ধারিত মূল্য। সম্প্রতি হবিগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা করে বিক্রি করার জন্য বলা হলেও কসাইরা বিক্রি করছেন ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায়। ফলে গরুর মাংস কেনা রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


যদিও হবিগঞ্জ ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপর রয়েছেন তারা। 


(১২ মে) বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়। আর এতে নেতৃত্বদেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা। অভিযানকালে ভোক্তভূগীদের দেয়া তথ্যমতে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রির প্রমান পাওয়া যায় হাতে-নাতে। এসময় সানু মিয়ার গোস্ত দোকান নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় শামীম স্টোর নামে অপর আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 


সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা জানান, সানু মিয়ার মাংসের দোকানে অতিরিক্ত মূল্য রাখাসহ মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা করা হয়েছে। ইতোপুর্বেও তাকে জরিমানা করা হয়েছিল। অভিযানকালে সানু মিয়াকে কঠোর ভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে করে তিনি অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি না করেন। 


তিনি বলেন, পরবর্তীতে এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও জনস্বার্থে প্রতিনিয়ত এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। 


ফারুক মিয়া, আবু ছালেক ও আলম মিয়াসহ একাধিক ভোক্তভূগী অভিযোগ করে জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা শুধু অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি করে না, তারা পচাবাসি মাংসও নতুন মাংস বলে চালিয়ে দেয়। এছাড়াও সাধারণ ক্রেতাদের অজান্তেই অসুস্থ ও রোগা গরু ছাগল জবাই করে বিক্রি করছে মাংস। যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই তাদের প্রতি কঠোর নজরদারি রাখা জরুরি। 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেসি/এসডি-০২