মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বারো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে সম্প্রতি বৃষ্টিতে বন্যা ও জলাবদ্ধতা আশঙ্কা করছেন বোরো চাষীরা। 


মৌসুমের শুরুতে সেচ সংকট, খরা, অনাবৃষ্টি, পোকার আক্রমণসহ নানা প্রতিবন্ধকতার পরও এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।


 

সরেজমিন আলীনগর, শমশেরনগর, রহিমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়নে বোরো ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন পূর্বে শ্রমিকরা তীব্র গরমে ধান কাটলেও গত দুইদিনের বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটছেন। ধান কাটা শেষ হবে আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে। উপজেলার পতনঊষারের কেওলার হাওর এলাকার ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। 


পূর্বে আবহাওয়া ভালো থাকায় ধান ঘরে তুলতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা বলে কৃষকরা জানান।
 

উপজেলার কালি মন্দির এলাকার বোরো চাষি ফখরুল ইসলাম সিলেটভিউ’কে বলেন, দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ধান কাটা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে। ধান একর প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মণ ফলন হয়েছে। সেচ সংকট না হলে ধান আরও ভালো হতো বর্তমানের বৃষ্টি কয়েকদিন আগে হলে আরও ভাল ফলন হত।


শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক ওয়াজিদ মিয়া বলেন, এ বছর টাকা দিয়ে ও সেচ পাইনি। অনেক কষ্ট করে তিন একর জমিতে  বোরো ধান চাষ করেছি। আমাদের বোরো ধানের জমিতে সেচের অভাব ও পোকার আক্রমণ উপেক্ষা করে মোটামোটি ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দুই তিন দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। 


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা  হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমি। কৃষকদের আগ্রহে এ বছর বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অশনি আশার আগে পাকা ধান কাটার জন্য কৃষি অফিস থেকে পুরো উপজেলায় মাইকযোগে প্রচার করা হয়। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে কৃষকরা আশাবাদী।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান সিলেটভিউ’কে বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না আসলে ভালো ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন উপজেলার কৃষকেরা। এ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-১০