মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২০ মে রাষ্ট্রীয় সরকারি ছুটি, শ্রম আইন সংশোধন, শিক্ষিত চা শ্রমিক সন্তানদের চাকুরী, চা শ্রমিকদেরকে ভূমির অধিকার ও শ্রম আইন রাষ্ট্রীয় ভাবে সংশোধন সহ কয়েক দফা দাবী নিয়ে চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে চা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 


২০ মে বিকাল ৫টায় জেলা পরিষদ মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু দলই ভ্যালীর কার্যকরী পরিষদের আয়োজনে এ সমাবেশ হয়। 

 

ভ্যালীর সভাপতি ইউপি সদস্য ধনা বাউরীর সভাপতিত্বে ও চা শ্রমিক নেতা সজল কৈরীর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান। 

 

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসিদ আলী। 

 

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- মনু দলই ভ্যালী কার্যকরী পরিষদের সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা। বক্তব্য রাখেন ভ্যালীর সহ-সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, চা মজদুর সম্পাদক সীতারাম বীন,  শুভ্র কুমার যাদব, দিলীপ কৈরী প্রমুখ। 

 

এসময় মনু দলই কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে লিটন গঞ্জুর সম্পাদনায় ২০ শে মে রক্তঝরা চা শ্রমিক দিবস বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

 

এছাড়া মিরতিংগা চা বাগানে রাতে প্রদীপ প্রজ্জলন ও র‌্যালি আলোচনা সভা ও শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। মিরতিংগা চাবাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে রাধা শ্যাম এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার আহমেদ বদরুল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরি, বীর মুক্তিযোদ্ধা কুল চন্দ্র তাতী, মানিক  প্রসাদ পাল প্রমুখ। 

 

উল্লেখ্য, মুল্লুক চলো আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিন চা-শ্রমিক দিবস  প্রতি বছর ২০ মে পালিত হয়। ১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের  প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজ জন্মস্থানে ফেরার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে চা শ্রমিকদের হত্যা করা হয়। এরপর থেকে এই দিনটি ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন চা-শ্রমিকরা। তবে তাদের দাবি অনেক আন্দোলনের পরও একশ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি এ দিবসটি। 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-০৯