গোলাপগঞ্জে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনজুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 


শনিবার (২১ মে) গোলাপগঞ্জের অভিজাত একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপজেলাবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

 

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেও কাজ করব সবার জন্য। সমাজে কাজ করতে হলে যে নির্বাচিত হতে হবে এমন কোন বিষয় নয়, এ জনপদের অসহায় মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারাবাকিতা আরো প্রসার ঘটাতে চাই। বঙ্গবন্ধুর অনেক স্বপ্ন এখনো অধরা রয়েগেছে। সেই স্বপ্ন আমাদেরকেই পূরন (বাস্তবায়) করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমাদের উপজেলায় শিক্ষিত মানুষের অভাব নেই, তবে অভাব রয়েছে শিক্ষিত ভাল মনের। আমাদের পাড়া গ্রামে অনেক মেধাবী রয়েছে। তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করে কাজে লাগাতে হবে। না হলে আমাদের এই মেধাবীরা অকালে ঝরে যাবে। মেধা বিকাশে আমাদের কাজ করতে হবে সেই লক্ষ ও আমার রয়েছে। ইংরেজী শিক্ষায় ও আমাদের ছেলে মেয়েদের গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান প্রতিযোগীতার বিশ্বে ইংরেজী শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে অনেক বেশি এদিকেও আমার ব্যক্তিগত চিন্তা রয়েছে। গোলাপগঞ্জের স্বর্ণালী অতীত রয়েছে। এ জনপদের মানুষ দেশ ও বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে কাজ করে গেছেন। আবারো ফিরে আনতে হবে হারানো সেই  স্বর্ণালী অতীত। এজন্য নতুন প্রজন্মকে উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। নতুন প্রজন্ম যাতে দেশ দেশের বাহিরে উচ্চপদস্থ অবস্থানে কাজ করে দেশের মুখ উজ্জল করতে পারে। বর্তমান যুগের জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়টি নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব। আমাদের যুব সমাজকে একটি সুন্দর-উজ্জল ভবিষ্যৎদানে ভালো কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। আমি সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। পিছিয়ে পড়া সমাজকে কিভাবে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেই লক্ষে ও কাজ করার আমার প্রবল ইচ্ছা শক্তি রয়েছে। বর্তমান সরকারের ঘোষণা গ্রাম হবে শহর, এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের পাশাপাশি সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।

 

তিনি আরো বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তিনি আর কোন দলের একক নন,  তিনি তখন হয়ে যান সার্বজনীন। আমি উপজেলাবাসীর একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। এজন্য আমি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সবার দুয়ারে পৌঁছে তাদের উৎসাহীত করব স্ব-স্ব ভোটাধীকার প্রয়োগের জন্য। আমি আশা করছি ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করে আমাকে উপজেলার উন্নয়ন এবং সকলের সেবক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিবেন।

 

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এলিম আরো বলেন, সদ্য প্রয়াত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমার বড় ভাই এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী যে ভাবে সুখে দুখে আপনাদের উপজেলাবাসীর পাশে ছিলেন, ঠিক সেই ভাবে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব ইনাশাআল্লাহ। এ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ। আমরা দু’জন প্রার্থী, ভোটারদের মন জয় করে তাদের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বিজয়ী হতে চাই। উপ-নির্বাচনে স্বতস্ফোর্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে সবার দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং যাব, ভোট প্রার্থনা করব। উপজেলাবাসীর দুঃসময়ে আছি, জীবনের অন্তীমকাল পর্যন্ত থাকব।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এএইচএ/এসডি-৩৭