ছবি: শাহীন আহমদ।
বন্যার পানি কমেছে, ঘরে ফিরছে মানুষ। কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ার সুযোগ কোথায়! কয়েকদিন ধরে জমে থাকা বন্যার পানি আর ময়লা-আবর্জনা মিলেমিশে পচে গিয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ; সিলেট নগরীতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর জন্য যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন দুর্ভোগ।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, সিলেটে গত ১০ মে থেকে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, আসাম প্রভৃতি রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয়ও প্রবল বর্ষণ হয়। টানা বৃষ্টি আর ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটে দেখা দেয় বন্যা। শুরুতে সিলেট সদর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ধীরে ধীরে ভয়াল রূপ নেয় বন্যা। প্রায় পুরো সিলেট জেলাতেই ছড়িয়ে পড়ে বন্যার পানি।
ভরা যৌবনে ফুঁসতে থাকে সিলেটে নদ-নদীগুলো। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি উপচেপড়ে তীরবর্তী সব এলাকায়। সুরমার পানিতে ঢুকে পড়ে সিলেট নগরীতে। গত মঙ্গলবার থেকে তলিয়ে যেতে থাকে নগরীর তালতলা, ছড়ারপাড়, কলাপাড়া, কালিঘাট, চাঁদনীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা। দ্রুতই বন্যার কবলে পড়ে নগরীর প্রায় ৬০ ভাগ এলাকায়। এসব এলাকার অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নেন নিজেদের নিকটাত্মীয়ের বাসায় কিংবা সিটি করপোরেশনের আশ্রয়কেন্দ্রে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টি কমে আসায় ও উজানের ঢলের বেগ কমে যাওয়ায় গত শুক্রবার দিনগত রাত থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে বন্যার পানি। গতকাল শনিবার ও আজ রোববার মিলে নগরীর সিংহভাগ এলাকা থেকেই পানি নেমে গেছে। তবে অনেক পাড়া-মহল্লায় গলি-ঘুপচিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় কিছু পানি জমে আছে।
পানি নেমে যাওয়ায় নিজেদের বাসা-বাড়িতে ফিরছেন নগরবাসী। কিন্তু বাসা-বাড়িতে গিয়ে স্বস্তি নেই তাদের। কয়েকদিন বন্যার পানির সাথে ময়লা-আবর্জনা জমে থেকে পচে গেছে। অনেক স্থানে খানাখন্দ বা ড্রেনে জমে থাকা পানি পচে গিয়ে কালো রং ধারণ করেছে। পচে যাওয়া আবর্জনা ও পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
নগরীর জামতলার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পানি সরে যাওয়ায় বাসায় ফিরেছি। কিন্তু এখন পড়েছি নতুন দুর্ভোগে। চারদিকে গলে-পচে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট গন্ধ।’
ছড়ারপাড়ের আখলুছ মিয়া বলেন, ‘বাসায় পানি ঢুকে পড়েছিল। বন্যার নোংরা পানি নেমে গেলেও এখন বাসায় ফিরে দেখি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আছে। বাসা পরিষ্কার করা নিয়ে এখন ব্যস্ত।’
নগরীর বন্যা কবলিত এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তারা এখন নিজেদের বাসা-বাড়ি পরিষ্কার করছেন। আসবাবপত্র ধোয়ামোছার কাজও চলছে। যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছিল, তারাও এখন পরিষ্কারকরণে ব্যস্ত।
নগরীর বাসিন্দাদের দাবি, যেসব এলাকায় বন্যার পানি ছিল সেসব এলাকার ড্রেনগুলো যাতে দ্রুত পরিষ্কার করা হয়। একইসাথে এসব এলাকার সড়কে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিষ্কার যাতে করা হয়। তাতে দুর্গন্ধ কমবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিচ্ছন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
পরে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে




