সোমবার সিলেটের কালিঘাটে বাজার মনিটরিংয়ের দৃশ্য।

রোববার সন্ধ্যায় আকরাম হোসেনের স্ত্রী জানালেন, বন্যা পরিস্থিতিতে বিদ্যুতবিহীন ঘরে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা নেই। ঘরে দুটি মোমবাতি ছিলো, শনিবার রাতে জ্বালিয়ে শেষ। দোকান থেকে মোমবাতি কিনে আনতে হবে। 

স্থানীয় বাজারে অনেক দোকান খুঁজে মোমবাতি না পেয়ে অবশেষে একটি দোকানে পেলেন- যে দোকানে মাঝে-মধ্যে নিত্যপণ্য ক্রয় করেন আকরাম। কিন্তু সেই দোকানেরই বিক্রেতা তার কাছে মোমবাতির প্যাকেটের দাম চেয়ে বসলেন ৬০ টাকা। হতভম্ব হয়ে আকরাম ‘এত দাম কেন’? জানতে চাইলে ওই দোকানি বিরক্ত হয়ে বললেন- ‘পোষালে নেন ভাই। গতকাল (শনিবার) ১২০ টাকা পর্যন্ত দিয়েও মানুষ মোমবাতি পায়নাই। আপনি যে ৬০ টাকায় পাইছেন সেটাই বেশি।’


এ দৃশ্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার একটি বাজারের। শুধু ওই বাজার বা দোকানই নয়, সিলেটে চলমান ভয়াবহ বন্যায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট তৈরি হওয়ার সুযোগে নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম ২-৫ গুণ বাড়িয়ে দিয়ে রীতিমতো ডাকাত রূপে আভির্ভূত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে মাত্রাতিরিক্ত দামেই অসহায় মানুষ অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

তবে বিষয়টি অবগত হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (২০ জুন) সিলেট নগরীর কালিঘাটসহ বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেছে ভোক্তা অধিকার সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের টিম। এসময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে নায্য দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সাবধান করা হয়। 

গত বুধবার (১৫ জুন) থেকে দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ে সিলেট। এক মাসের মাথায় হানা দেওয়া বন্যা ভয়াবহ রূপ নেয়। এবার বন্যাকবলিত হয় সিলেট মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকাসহ জেলার সবকটি উপজেলা। তলিয়ে যায় অনেকের পুরো ঘর-বাড়ি। নগরীর বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর বাসাবাড়িতে ছিলো কোমর সমান পানি। সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুতকেন্দ্র, শাহজালাল উপশহর উপকেন্দ্র ও বরাইকান্দি উপকেন্দ্রে পানি ঢুকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রায় পুরো সিলেট। দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট। এ অবস্থায় সিলেটের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী মোমবাতি, চিড়া, মুড়ি, গুড়, চাল, আলু ও কয়েলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ২ থেকে ৫ গুণ বাড়িয়ে দেন। অসহায় বন্যার্ত মানুষও বাধ্য হয়ে ‘ডাকাত রূপী’ এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাধ্য হয়ে এসব জিনিসপত্র কিনেন।

সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, রোববার স্থানীয় একটি দোকান থেকে ৫ টাকার মোমবাতি ২০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। 

দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, চিন্তা করা যায়! স্থানীয় বাজারে আজ (সোমবার) মুড়ির কেজি ১২০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। 

তবে এ বিষয়ে ‘অবগত আছে’ বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরটির সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, বন্যা পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে প্রচুর চাহিদা বেড়ে যাওয়া সিলেটে চিড়ার একটি অস্থায়ী সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বাহিরের জেলা থেকে প্রচুর চিড়া আসছে। আজ-কালের মধ্যেই চিড়ার দাম কমে যাবে। তবে কেউ যদি চিড়াসহ জিনিসপত্রের দাম অতিরিক্ত নেয় তবে জরিমানা করা হবে। আমরা বাজার মনিটরিং করছি। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম সোমবার (২০ জুন) বিকালে সিলেটভিউ-কে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি এবং আজ (সোমবার) নগরীর কালিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে বাজার মনিটরিং করেছি। এসময় আমরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে নায্য দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির আহ্বান জানিয়েছি। 

তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমরা অভিযানে নামবো এবং যেখানেই অতিরিক্ত দামে এসব জিনিসপত্র বিক্রির সত্যতা পাবো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।  


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম