সিলেট জেলা ও সুনামগঞ্জে বন্যা সর্বনাশ রূপ দেখাচ্ছে। এবার আক্রান্ত হলো সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। অতিবৃষ্টি ও উজান ঢলে দুই দিনের ব্যবধানে পানি বন্দি করে ফেলেছে প্রায় পুরো উপজেলা।

বন্যার থাবা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা উজান এলাকাখ্যাত মাইজগাও ও ঘিলাছড়া ইউনিয়ন। গত দুই দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে কুশিয়ারা নদীর পানি।


ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে ফেঞ্চুগঞ্জ পুর্ববাজার, থানারোড়, পশ্চিমবাজার, সর্দারকলোনী, হাসপাতাল রোড, এলাকা। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের শাইলকান্দি, সুড়িকান্দি, গয়াসী, ভেলকুনা, সুলতানপুর, মানিককোনসহ আশপাশের এলাকা।

আক্রান্ত হয়েছে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন, মাইজগাও ইউনিয়ন, ঘিলাছড়া ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়ন। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের প্রায় ৯০শতাংশ এলাকাই পানির নিচে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান কাজী বদরুদ্দোজা।

বন্যার কারনে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫৫হাজার মানুষ। বন্যা আক্রান্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সাহায্য করে যাচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জে ৫টি ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্র খোলে মানুষদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত খাবার দিচ্ছে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের উপ-কেন্দ্রে পানি উঠে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্র বন্ধ হতে গত শনিবার রাতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে পুরো ফেঞ্চুগঞ্জ। প্রায় ২০ঘন্টা পরে পালবাড়ির বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সচল হলেও বৃষ্টির কারনে গাছপালা পড়ে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারনে আজ সন্ধ্যায় সিলেট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার ইলাশপুরে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে সামন ডুবে গিয়ে মহাসড়কের যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সিলেটভিউকে বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ।  ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারনে ৫টি ইউনিয়নের ব্যাপক মানুষ দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রচুর মানুষ বন্যা কমে যাওয়ার আশায় নিজেদের বাড়িঘর, গবাদিপশু,আসবাবপত্রের জন্য কোন রকম বাড়িতেই টিকে আছেন। অনেকেই ঘরের ভিতর মাচা বেধে বাস করছেন।

তিনি বলেন, চান্দপুর থেকে মল্লিকপুর হয়ে মানিককোনা যাওয়ার সড়কটা ভেঙ্গে গেছে না কেউ কেটে দিয়েছে নিশ্চিত হতে পারিনি। কিন্তু এই কারনে মল্লিকপুর হাওর হয়ে কুশিয়ারা নদীর পানি হুহু করে ঢুকে দীঘির পার,পশ্চিম মল্লিকপুর, ইলাশপুর, কঠাল প্লাবিত করছে। এই দিকে পানি ঢুকার কারনে আজ সিলেট-মৌলভিবাজার মহাসড়কের ইলাশপুর নামক স্থান একফুট পানির নিচে!

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার জন্য ২০ মেট্টিক টন চাল ও ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। এগুলো বিতরনের জন্য স্থানীয় সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কমিটি বৈঠক করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ত্রানগুলো সঠিকভাবে বিতরণ হতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও নিয়মিত মনিটরিং করবেন।

বন্যা কবলিত এলাকায় ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সাহায্য করতে তিনি বিত্তবান ও প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এফইউ/এসডি-৩৯