সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত উপজেলা গুলোর মধ্যে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ অন্যতম। স্মরণকালের এ বন্যায় প্রাকৃতিক সম্পদের গর্ভধারণী অধ্যুষিত গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 


ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ঐ ৩ টি উপজেলা দেশের বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিনই ধলাই, পিয়াইন, ডাউকি ও সারী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে বন্যার পানিতে। তাছাড়া পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে বানভাসি মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আনুপাতিক হারে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ। সিলেট বিভাগ জুড়ে এবার বন্যা ৮৮ সালের রেকর্ডভঙ্গ করেছে।

 

বন্যাকবলিত এ অঞ্চলের বানভাসি মানুষের দুঃখ ,দূর্দশার অন্ত নেই। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের জন্য পেশাদার একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিয়মিত বন্যা কবলিত এই জনপদের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এই আসা যাওয়ার পথে দেখা একজন প্রকৃত জনদরদী নেতার। যার কথা না বললেই নয়। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের এই সৌভাগ্যর বরপুত্র সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। বানভাসি  মানুষের বিপদে সাথী হতে অবিরাম ছুটে চলা একজন প্রকৃত জনদরদী নেতার প্রতিকৃতি তিনি। বন্যা কিংবা ঝড়সহ প্রতিটি দূর্যোগে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্ত্রী ইমরানের  নিরন্তর প্রচেষ্টা আর ছুটে চলা। বানভাসি মানুষের জন্য আর্শীবাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে এই জনদরদী নেতা। যিনি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। বক্তৃতায় নয় কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে প্রকৃত জননেতারা এমনই হয়। দেশের বর্তমান অপরাজনীতি ও ফরমালিন নেতাদের ভীড়ে প্রকৃত খাঁটি জননেতার পরিচয় দিয়েছেন ইমরান। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য মন্ত্রী ইমরান আহমদের ভূমিকা ইতিহাস হয়ে রবে।

 

বন্যার পানি যখন সিলেট জেলা ছাড়িয়ে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ  জেলাগুলো কবলিত হওয়া শুরু করলো ঠিক তখন মন্ত্রী ইমরান আহমদ  নিজ নির্বাচনী এলাকা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ  উপজেলার মানুষের জানমালের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন আর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করে সম্ভাব্য সকল প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন।  বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে দূর্গতদের পাশে গিয়ে দাড়ালেন তিনি । পাহাড়ি ঢলের বিশাল জলরাশি উপেক্ষা করে ছুটে চলেছেন  গ্রামের পর গ্রাম । মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাঘবের জন্য হাটু পানি, মাঝা বা কোমড় সমান পানি ভেঙ্গে ছুটে চলেছে একজন মন্ত্রী । নিরাপত্তার ঘোরাটোপ আর মন্ত্রীত্বের প্রটোকল কিছুই তাকে আটকাতে পারেনি। নিরন্তর ছুটে চলেছেন মানুষের জন্য খাবার নিয়ে ।আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে। অসুস্থদের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসার  ব্যবস্থা করতে   । বন্যা কবলিত মানুষের জন্য যা যা করণীয় তার সবই করেছেন তিনি । দুই একটা ঘটনা না বললেই নয়। যেমন বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার ১৮৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ ও গবাদিপশু তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

 

পাশাপাশি চলতি বন্যায় একজন মন্ত্রী হয়ে ঢাকা থেকে বাই রোডে  তার নির্বাচনী এলাকায় দুর্গত মানুষের খোঁজ খবর নিতে ছুটে আসেন এবং ৩ দিন অবস্থান করেন। ১৮৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রের ৫৬ হাজার ৫০৪ জন আশ্রিত মানুষের জন্য তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তাছাড়া তার সুপারিশে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ৩০৮ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

 

তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বন্যাদূর্গত একজন মানুষও যেন না খেয়ে মারা না যায় । নিরহংকার মন্ত্রী ইমরান  সেই সব বানভাসিদের সাথে খাবার খেয়েছেন এক থালে বসে । দিনের বেশির ভাগ সময় বানভাসি মানুষের সাথে কাটিয়ে দিচ্ছেন । বন্যা শুরু পর থেকে ঘন ঘন নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন। তিন উপজেলার বন্যাদূর্গত প্রত্যেকটি এলাকার মানুষের সাথে পৃথক ভাবে মতবিনিময় করেছেন । শুনছেন তাদের অভাব অভিযোগ । সাধ্যমত সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করছেন । সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে যেভাবে সাপ পোকা মাকড়ের ভয় না করে  বন্যার  পানিতে নেমে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন  তা দেখে সত্যিই অবাক হওয়ার মতো । এতোটুকু বুঝলাম .ফটোসেশন ,মিডিয়া কাভারেজ বা লোক দেখানোর জন্য তিনি  এসব  করেননা । যতটুকু করছেন তা মনোযন্ত্রণার আপন তাগিদে । একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যা করেন বা করছেন তা দেখে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নেয়া উচিত। বন্যার নতুন পানিতে নেমে  হাটু পানি,কোমড় পানি ঠেলে ভেজা কাপড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্যাদূর্গতদের দোয়াড়ে দোয়াড়ে যাচ্ছে একজন মন্ত্রী। যার  ক্লান্তি বলে কোন জিনিস  নাই । অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এলাকার মানুষকে একটু ভালো রাখার জন্য।

 

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবক টিম। যারা তিন উপজেলাবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।  বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সারাদিন পানিতে নেমে  বাড়ি বাড়ি গিয়ে বন্যার্তদের খোজ-খবর নিচ্ছেন।বানভাসি এ সব মানুষের জন্য  সরকারী ত্রাণের অপেক্ষা না করে   নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা শুরু করেন ।  দেশের আরোও বিশটি জেলায় বন্যা হয়েছে ।খবর নিয়ে দেখুন তো, কোন এলাকার কয়টা মন্ত্রী ,এমপি ও জন প্রতিনিধি ইমরানের মতো জনগণের পাশে বিপদের সাথী হয়েছে।

 

এছাড়া করোনা এবং গত বন্যায় নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য মন্ত্রী ইমরান যে ভূমিকা রেখেছেন তা সত্যিই প্রশাংসার দাবী রাখে। দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষ জনতার প্রতিনিধির কাছে  সেবা চাই । আর যে জনগণের প্রকৃত সেবা করে সেই তো জনসেবক।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএম/এসডি-৪৫