রাতে এখানে জলাবদ্ধতা থাকলেও সকালে শুকনো দেখা গেছে। ছবি: মোজাম্মেল হক।
মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরজুড়ে থৈ থৈ অবস্থা ছিল। এ যেন হঠাৎ আসা পাহাড়ি ঢল কিংবা বাঁধ ভাঙা বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল পুরো নগরী। পানি ঢুকে পড়ে মানুষের বাসা-বাড়িতে। বিপাকে পড়েন নগরবাসী। শুরু হয় সমালোচনা। তোপের মুখে পড়েন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মেয়রের অপরিকল্পিত উন্নয়নের সমালোচনায় মুখর। তবে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পানি দীর্ঘক্ষণ থাকেনি। আজ সকালেই ভোগান্তির পানি নেমে গেছে।
গতকাল শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। গেল কয়েকদিনের দাবদাহের পর বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসলেও জলাবদ্ধতার বিড়ম্বনায়ও কম ভোগায়নি। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। বাসা-বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলায় উঠে পড়ে পানি। বাসা-বাড়িতে পানি ওঠায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার, বারুতখানা, হাওয়াপাড়া, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, লোহারপাড়া, বড়বাজার, লামাবাজার, মদিনামার্কেট, চারাদিঘিরপাড়, সওদাগরটুলা, সোবহানীঘাট, যতরপুর, উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, শাপলাবাগ, তালতলা, সুবিদবাজার, ঘাসিটুলা, শামীমাবাদ, জল্লারপাড়, ভাতালিয়া, কানিশাইল, মজুমদারপাড়া, মেন্দিবাগ, দাড়িয়াপাড়া, দরগামহল্লা, লালদিঘিরপার, কুয়ারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে।
এসব এলাকার বেশিরভাগ বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি উঠে যায়। এসময় অনেককে খাটের উপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে রক্ষা করতে দেখা যায়। রাত ১টার দিকে বৃষ্টি থামলেও রাতভর থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সিলেটবাসী৷
সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোগান্তির পানি রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নেমে গেছে। তবে অনেকেরই মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে ভিজে গেছে।
সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, রাতে পানি ছিল। বেশ ভোগান্তি হচ্ছিল। তবে সকালে অনেক জায়গায় পানি কমে যাওয়ায় নেমে গেছে।
মূ্লত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কাজ করা হলো। এতল টাকা খরচ করার পরও কেন এতো ভোগান্তি। সংশ্লিষ্টদের এসব নিয়ে ভাবতে হবে।
উপশহরের রাসেল মিয়া বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন জনস্বার্থে প্রভাব ফেলবে। কোটি কোটি টাকা খরচ হবে। কাজে আসবে না। যদি সঠিকভাবে তদারকি করা না যায় তাহলে জনভোগান্তি আরও মারাত্মক আকারে ধারণ করবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, উন্নয়নের নামে শত শত কোটি টাকা দিয়ে সিলেট নগরে যেসব ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ সিলেট সিটি করপোরেশন। মূলত সিসিকের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় নগরবাসী আবারও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি।
এদিকে, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুজল লেগে গেলেও সিলেটের নদনদীর পানি বৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে নি বলে মন্তব্য করেছেন পাউবো, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএম/আরআই-কে




